ঐতিহ্য

লাঙল-জোয়াল-হালের বলদ

নিয়ামুর রশিদ শিহাব

 

কৃষি ঐতিহ্যের ধারক হয়ে আছে লাঙল-জোয়াল। কাকডাকা ভোরে গ্রামবাংলার কৃষকরা মরিচ পোড়া দিয়ে পানি দেওয়া ভাত (পান্তাভাত) খেয়ে গরু, লাঙল, জোয়াল ও মই কাঁধে নিয়ে জমি চাষের উদ্দেশ্যে বের  হতেন। লাঙল তৈরি হতো দু’ধরনের কাঠ দিয়ে। যে কোনো শক্ত কাঠের সঙ্গে দরকার হতো তালকাঠের। লাঙলের ফলা বিঁধিয়ে কর্ষণ করা হতো মাটি। আর লাঙলের ভারসাম্য বজায় রাখা হয় দড়িযুক্ত জোয়াল দুই গরুর কাঁধে রেখে। কৃষকের এক হাতে লাঙল আর অন্য হাতে পাঁচন। গরু শাসনের লাঠিকে চাষিরা পাঁচন বলেন। গরু হাঁটতে শুরু করলেই লাঙলের ইশ (ফলা) বিঁধে যায় মাটিতে। এভাবে জমি চাষ করা হতো। এছাড়া ফসল মাড়াই করার জন্যও ব্যবহার করা হতো গরু। কিন্তু কালের বিবর্তনে এসবের ব্যবহার আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। 

কৃষিবিদদের মতে, লাঙল-জোয়াল বলদের কাঁধে বসিয়ে হালচাষ করার পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব। গরুর গোবর  থেকে নির্ভেজাল জৈবসার পাওয়া যায়। এ সার জমির উর্বরা শক্তি ও পুষ্টিগুণ বাড়ায়। রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।

এখন কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, ধান মাড়াই মেশিন, হার্ভেস্টার, কীটনাশক ছিটানোর মেশিন ও সার প্রয়োগের মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নত ও অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি। তাই হয়তো বিলুপ্তের খাতায় নাম উঠতে যাচ্ছে লাঙল, জোয়াল, মই ও হালের বলদের।