‘নারী নির্যাতন’ হিসেবেই বর্ণনা করা হোক

অপরাধীর বিচার হলেও একজন নির্যাতিত নারীকে সারা জীবন গ্লানি বয়ে বেড়াতে হয়। নির্যাতিত নারীদের পরিবার ও সমাজে অসহনীয় দুঃখ-কষ্ট, অবহেলা ও অপমান সহ্য করে বেঁচে থাকতে হয়। বর্তমানে নারী নির্যাতনের ঘটনাকে যে শব্দটি ব্যবহার করে গণমাধ্যমসহ সর্বত্র প্রচার করা হচ্ছে, তা নারীকে সমাজে আরো বেশি অপমানিত ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত করছে। ব্যাপক প্রচারণার ফলে শিশু-কিশোররাও এই অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারছে। তারা প্রায়ই পরিবারের বড়দের কাছে সেই জঘন্য শব্দটির মানে জানতে চায়, যা অনেকের পক্ষেই ছোটদের কাছে বুঝিয়ে বলা সম্ভব হয় না। অথচ নির্যাতন শব্দটি তাদের কাছে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। কাজেই এইসব অপরাধকে ‘নারী নির্যাতন’ হিসেবে বর্ণনা করে নির্যাতনকারী নরপশু ও দুর্বৃত্তদের সমাজে ঘৃণার পাত্র হিসেবে গণ্য করতে হবে। আমাদের একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, শুধু অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে বা সাজা বাড়িয়ে কোনো অপরাধ প্রবণতাই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। অপরাধের মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে—নারী নির্যাতনের পিছনে রাজনীতির যেমন প্রভাব রয়েছে, তেমনি রাজনীতির কারণেই নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়াও যাচ্ছে না। নারী নির্যাতনকারী যে দলের বা সংগঠনের বা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।  

বিপ্লব বিশ্বাস, গোয়ালচামট, ফরিদপুর