ঢাকা শহরে অসংখ্য খাল এবং ডোবা-নালা রয়েছে। যেগুলো সবসময় ছিল অরক্ষিত এবং দখলে। বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ দিয়ে সেগুলো ভরাট এবং পরিপূর্ণ ছিল। শহরের অনেক খাল দখল হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা এখন চরমে। স্বল্প সময়ের মাঝারি বৃষ্টিপাতেই অনেক সময় রাস্তায় পানি জমে যায়। অন্যদিকে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন পরিকল্পনা করছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে দখলকৃত খালগুলো পুনরুদ্ধার করার। কিন্তু প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে এই পরিকল্পনা কতোটা কার্যকর হবে, সেই প্রশ্ন যেমন থেকে যায় তেমনি কত সময়ের প্রয়োজন হবে সেটাও এখানে অনিশ্চিত। কিন্তু এই সমাধানের আশায় থেকে ততদিন জলাবদ্ধতার সংকট বয়ে বেড়ানো শহরবাসীর জন্য যেমন অসহনীয় তেমনি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেওয়াও দুরূহ। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র স্বয়ং মিরপুর এবং আশেপাশের খালগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। তিনি মিরপুরের গোদাখালি খালটি পুনরুদ্ধারের জন্য উপস্থিত হন। খালটি পরিষ্কার করতে গিয়ে উঠে আসে নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ—ভাঙা ফ্রিজ, চেয়ার, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদি। এসব পদার্থ দিয়ে ভরাট থাকায় খুব সহজেই এখান থেকে মশার উত্পাদন হয়, যা খুবই ভয়াবহ। তাই তিনি সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার আহ্বান করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এখন পর্যন্ত ৯টি খাল পুনরুদ্ধার করেছে, যা খুবই প্রশংসনীয়। তবে বাকি খালগুলোও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ কমাতে এ কাজের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে।
মামুন হোসেন আগুন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ