শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
শায়েস্তাগঞ্জে করোনার কারণে আটকে পড়া প্রবাসীরা বিপাকে পড়েছেন। কর্মস্থলে ফিরে যেতে না পেরে অনেকে সাধ্যমতো কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন জীবিকার প্রয়োজনে। আবার কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। উপজেলার কুতুবের চক গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন তিন মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন সৌদি আরবের মদিনা থেকে। ছুটি শেষে করোনা পরিস্থিতির কারণে ফেরত যেতে পারেননি। প্রায় সাত মাস কর্মহীন থাকার পর অবশেষে ছোট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। তিনি মদিনার একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন ভালো বেতনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবারও সৌদি ফিরে যেতে চান। তার মতো উপজেলার অনেক প্রবাসীই দেশে বিকল্প কাজ খুঁজছেন। অনিশ্চিত আগামীর কথা ভেবেই কেউ ব্যবসা, চাকরি কিংবা চাষাবাদে মনযোগী হচ্ছেন। আবার কেউ বাধ্য হয়ে দিনমজুরের কাজ বেছে নিয়েছেন।
উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাবলু মিয়া কাতার থেকে ছুটিতে এসে বিপাকে পড়েছেন। তিনিও আবার র্কমস্থলে ফেরার জন্য চেষ্টা করছেন। ব্রাহ্মণডুরা গ্রামের জোবায়ের আহমেদ সিঙ্গাপুর থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে যেতে পারেননি। আর কর্মস্থলে ফেরার ইচ্ছেও নেই তার। প্রবাসীদের অনেকেরই ইচ্ছা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আবারও প্রবাসে কর্মস্থলে ফিরবেন তারা। একই সঙ্গে রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখতে চান তারা। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুল ইসলাম জাহেদ বলেন, সরকার প্রবাসীদের প্রতি খুবই আন্তরিক। প্রবাসীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনাও ঘোষণা করেছিলেন। সবকিছু স্বাভাবিক হলে অবশ্যই প্রবাসীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে পাঠানোর জন্য সহযোগিতা করা হবে। তবে তিনি এখানে নতুন আসায় ঠিক কতজন প্রবাসী শায়েস্তাগঞ্জে লকডাউনে আটকা আছেন এই তথ্য ও তালিকা তার কাছে নেই বলে জানান।