রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাঁড়াশি অভিযান, আটক ২০

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা ক্যাম্প কুতুপালংয়ে আরসা ও মুন্না গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় গত ১২ দিনে ৯ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার যৌথবাহিনী ক্যাম্পের নৌকার মাঠ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। এসময় হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজিতে জড়িত সন্দেহে প্রায় ২০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।     

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার হেমায়েতুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যৌথবাহিনীর অভিযানে ২০ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে বালুখালী ক্যাম্পের জিয়াউর রহমান, মো. উসমান, ছৈয়দ উল্লাহ, মো. রফিক, জামতলী ক্যাম্পের এজাজুল হক, রহমত উল্লাহ, সোনা মিয়া, রশিদুল্লাহ, ইয়াসের, উসমান, ইসমাইল, কবির আহমদ, সুলতান আহমদ, আয়ুবুল ইসলাম, আবুল কাশেম ও মো. রফিক উল্লাহ রয়েছেন।

জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুন্না ও আরসা গ্রুপের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এতে এ পর্যন্ত নারীসহ ৯ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে। রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ হতাহতের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

গতকাল রবিবার ক্যাম্প ঘুরে একাধিক রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চোর, ডাকাত, দাগি আসামিসহ অনেক বিপথগামী লোক এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তারা আগের অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেনি। মিয়ানমারের চাইতে এখানে তারা আরো হিংস  হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছে।

তবে ক্যাম্প ইনচার্জ মো. খলিলুর রহমান বলেন, ভাসানচরে যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গারা এখনো কোনো লিখিত আগ্রহ প্রকাশ করেনি। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, ক্যাম্পে নতুন করে কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।