দুই আসামির স্বীকারোক্তি এক জনের অস্বীকার আলামত জব্দ

নোয়াখালী প্রতিনিধি

জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে এক নারীকে (৩৫) বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ভিডিওচিত্র ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত দুই মামলায় রিমান্ড শেষে গতকাল রবিবার বিকালে  তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) । মামলায় ১ নম্বর আসামি নুর হোসেন ওরফে বাদল এবং ৫ নম্বর আসামি মাঈন উদ্দিন ওরফে সাজুর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় বাদল ও সাজুর জবানবন্দি রেকর্ড করে গ্রহণ করেন ৩ নম্বর আমলি আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাশফিকুল হক এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন ৪ নম্বর আমলি আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহ। জবানবন্দি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের একটি সূত্র জানায়, এ দুই জন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছন। অন্যদিকে মামলার ৯ নম্বর আসামি রহমত উল্যাকে     আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু সে  ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানে অস্বীকার করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা  জজ আদালতের পিপি মো. গোলজার হোসন।  জবানবন্দি প্রদানকারী এ দুই আসামিসহ গত চার দিনে রিমান্ডে থাকা ৯ আসামির মধ্যে সাত জন আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি  প্রদান করেন। মামলার অন্য ৩ নম্বর আসামি ঘটনার মূলহোতা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারের প্রধান সহযোগী আবুল কালাম রিমান্ডে রয়েছেন। সে এ দুই মামলা ছাড়াও নির্যাতনের শিকার ঐ নারীর ধর্ষণ মামলার আসামি।

নারী ও আসামির আলামত জব্দ

গতকাল সকালে পিবিআই কর্মকর্তাগণ একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে নির্যাতনের শিকার সেই নারীর বাড়ি থেকে মামলার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী উপস্থিত ঐ নারীর বসতঘর থেকে তার ব্যবহূত জামা-কাপড়, বালিশ, বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তা জব্দ করেন। ঐ নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনকালে পরিহিত ১ নম্বর আসামি নুর হোসেন ওরফে বাদলের জিনসের প্যান্টটি শনিবার রাতে  ঢাকার কামরাঙ্গীর চর থেকে উদ্ধার করে তা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার।