ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে শাপলা চত্বরে অবরোধ

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সড়ক অবরোধ করে এক দল শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের কারণে গতকাল রবিবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে সব দিকেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে সাত দফা দাবি পেশ করেছেন। তারা ধর্ষকদের ফাঁসি চান না। আজীবন কারাবাস চান। এছাড়া গতকাল বিকেলে শাহবাগে আলোকচিত্র প্রদর্শন করে নিপীড়নবিরোধী ছাত্রজোট।

মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেন মোল্লা বলেন, ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ, মতিঝিল বয়েজের এক দল শিক্ষার্থী সড়কে নামে। পরে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ‘ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন’ ব্যানার নিয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে যোগ দেন। দুপুর ২টার দিকে তারা সড়ক থেকে চলে যান। 

এদিকে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসি চায় না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা চায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ধর্ষকের আমৃত্যু যাবজ্জীবন সাজা। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বিরোধী আন্দোলনকে ফলপ্রসূ করতে এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সাত দফা দাবি দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানহা তানজিন লিখিত সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানহা তানজিন বলেন, ধর্ষণ আইন পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে ধর্ষকের এবং সীমা ভেদে সকল প্রকার যৌন হয়রানির সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে এবং ভিকটিমের প্রাণ বিপন্ন করা রুখতে পরিবর্তনযোগ্য লঘু শাস্তির উল্লেখ থাকতে হবে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৭৫ ধারা অনুসারে উল্লেখিত ধর্ষণের সম্মতির সংজ্ঞা সংশোধন করতে হবে যাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া ছেলে শিশু, পুরুষ, যৌনকর্মী, লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় মানুষ ও হিজরারাও যেন আইনের শরণাপন্ন হতে পারেন। তিনি আরো জানান, সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারার বিলোপ অর্থাত্ জেরা করার সময় যাতে ধর্ষণের শিকার নারীকে পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারক চরিত্র, পেশা, পোশাক ইত্যাদি নিয়ে হেনস্থা না করে। 

তিনি আরো বলেন, ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীদের মামলা পরিচালনাকালে লিঙ্গীয় সংবেদনশীল আচরণ করতে পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক ও সমাজকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের প্রতিটি মাদ্রাসা, স্কুল কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাঠ্যপুস্তক ও মিডিয়াতে এবং সাহিত্য নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন ও নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে। ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রতিটি উপজেলায় মেডিক্যাল টিম গঠন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ভিকারুননিসা নূন কলেজের চৌধুরী নদী ও তাসফিয়া তারান্নাম রিদিতা, গভমেন্ট ল্যাবরেটরি কলেজের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহিন আহমেদ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাদিয়া আরাফাত সুচিতাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অপরদিকে গতকাল বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগ জাদুঘরের সামনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী করে নিপীড়নবিরোধী ছাত্রজোট। এ সময় তারা বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলোকচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল, সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।