তিনি যে কাজ করেছেন তা ক্ষমারযোগ্য?

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, এই আইনজীবী (ইউনুস আলী আকন্দ) এক জন অভ্যাসগত আদালত অবমাননাকারী। এর আগে উনি তিনবার এ ধরনের অপরাধ করলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর কতবার তাকে ছেড়ে দেব? উনি এবার যে কাজ করেছেন সেটা কি ক্ষমারযোগ্য? উনার যে বয়স (৬১ বছর) তাতে প্র্যাকটিস থেকে অবসর নেওয়ার সময় হয়েছে। ফেসবুকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত নিয়ে আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দের করা বিরূপ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার মামলার শুনানিতে গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল বেঞ্চে এ মামলার শুনানি চলে। সিনিয়র আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে আজ সোমবার এ বিষয়ে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত।

আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, কোন কাজটি গোপনে হয়েছে আপনারাই বলুন? ১৫ বছর ধরে যেসব ফাঁসির আসামি কনডেম সেলে আছে, তাদের জেল আপিল শুনেছি। এসব আপিল কি আমরা গোপনে শুনেছি? উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি নিয়েই জেল আপিলের রায় দেওয়া হচ্ছে। তাতে কেউ খালাস পাচ্ছেন, কারো সাজা বহাল থাকছে। এসব পুরোনো মামলা শোনার ক্ষেত্রে সরকারের কী স্বার্থ থাকতে পারে? পুরোনো মামলা শুনানি করতে গিয়ে কি বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে? আর করোনাকালে আমরাই ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করেছি। আদালতের নানা বিষয়ের সঙ্গে সরকারকে টেনে আনা বা যোগসূত্র খোঁজা দুঃখজনক। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির কোর্টে ডায়াসের ওপর রাখা ল্যাপটপের সামনে হাজির হন আদালত অবমাননাকারী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। তিনি  নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে লিখিত আবেদন দেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ১ হাজারের মতো জনস্বার্থমূলক মামলা করেছেন। তিনি জনস্বার্থ মামলা করার ক্ষেত্রে এক জন ‘পাইওনিয়ার’। একই সঙ্গে তার ঐ ক্ষমার আবেদনে ১০/১৫ জন সিনিয়র আইনজীবীর নাম উল্লেখ করেছেন। সেখানে  বলেছেন উনি তাদের এই মামলায় এনগেজ (অন্তর্ভুক্ত) করেছেন। কিন্তু সিনিয়র আইনজীবীরা বলেন, তাদের সম্মতি না নিয়েই ক্ষমার আবেদনে নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আবেদনে উল্লিখিত অন্যান্য তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।

বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, এটা কি আদালতকে ধোঁকা দেওয়া নয়? এত মিথ্যা আপনি ঢাকবেন কী করে? একটি নয়, হাজারটি মিথ্যা বলেছেন। তখন ইউনুস আলী বলেন, মাই লর্ড যে আবেদন দিয়েছি সেটা পরিবর্তন করে নতুন আবেদন দেব। বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, যে আবেদন দিয়েছেন সেটা এখন কোর্টের রেকর্ড। এটা মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করা যাবে না। শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ঐ আইনজীবী ফেসবুকে যেসব স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। আদালত অবমাননাকারী আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, আপনি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে সারা বিশ্বে আমাদের জুডিশিয়ারিকে হেয় করেছেন। সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কোর্ট খুলে দেওয়ায় আইনজীবীদের মধ্যে কোনো হাহাকার নাই। আপনাদের উদ্যোগ নেওয়ার কারণে এফিডেভিট ও ফাইলিং শাখায় দীর্ঘদিন ধরে যে অব্যবস্থাপনা ছিল সেটা দূর হয়েছে। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান বলেন, বিচারে আসলে কাউকে চেনার সুযোগ নাই। সবাই আদালতের কাছে সমান। শুনানি শেষে আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত।