প্রদীপ সাহা
শরত্কালে ফোটে। শেফালি নামেও এর পরিচিত রয়েছে। আরো কয়েকটি প্রচলিত নাম হলো—পারিজাত, শেফালিকা, কোরাল জেসমিন, রাগাপুষ্পি, খারাপাত্রাকা, পারিজাতা ইত্যাদি। ফুল ছোট এবং সুগন্ধযুক্ত। কোমল ফুলে ছয়টি পাপড়ি থাকে, পাপড়ির রং সাদা হলেও বোঁটার অংশ কমলা রঙের এবং পাপড়ির সংযোগস্থল বৃত্তাকার কমলা রঙে বিস্তৃত। এর ফল চ্যাপটা ও বাদামি হূদপিণ্ডাকৃতির। ফুলগুলি রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়। শিশির ভেজা সকালে ঝরে থাকা শিউলি ফুল অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে। শিউলি ফুলগাছকে কখনো কখনো ‘দুঃখের বৃক্ষ’ বলা হয়। কারণ দিনের আলোতে এ ফুল তাদের উজ্জ্বলতা হারায়।
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে শিউলি ফুল বা পারিজাত-এর কথা অনেকবার এসেছে। কৃষ্ণের দুই স্ত্রী—সত্যভামা ও রুক্সিণীর খুব ইচ্ছে তাদের বাগানও পারিজাতের ঘ্রাণে আমোদিত হোক। কিন্তু পারিজাত তো স্বর্গের শোভা! কৃষ্ণ তার স্ত্রীদের খুশি করতে চান। তাই তিনি লুকিয়ে স্বর্গের পারিজাত বৃক্ষ থেকে একটি ডাল ভেঙে এনে সত্যভামার বাগানে রোপণ করেন, যার ফুল রুক্সিণীর বাগানেও ঝরে পড়ে সুগন্ধ ছড়ায়। এদিকে স্বর্গের রাজা ইন্দ্র ঘটনাটা জেনে খুব রেগে যান! তিনি বিষ্ণু অবতারের ওপর গোপনে ক্রুদ্ধ ছিলেন। এ কারণে তিনি কৃষ্ণকে শাপ দেন—কৃষ্ণের বাগানের পারিজাতবৃক্ষ ফুল দেবে ঠিকই, কিন্তু কোনোদিন ফল আসবে না; তার বীজে কখনো নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে না।
আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে ফুল থেকে পাতার ভেষজ গুণ বেশি। এর পাতা সাইটিকা বাত, আর্থারাইটিস, জ্বর ইত্যাদি নানারকম যন্ত্রণাদায়ক সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। মাথার খুসকি দূর করতে শিউলি-বীজ উপকারী। সাইটিকার ব্যথায় প্রতিদিন সকালে ২-৪টি শিউলি পাতা ও ২-৪টি তুলসী পাতা একসঙ্গে পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি ছেঁকে সকাল ও সন্ধ্যায় খেলে উপকার পাওয়া যায়। প্রতিদিন সকালে চায়ের মতো এক কাপ পানিতে দুটি শিউলি পাতা ও দুটি তুলসী পাতা ফুটিয়ে ছেঁকে খেলে আর্থারাইটিসের ব্যথা উপশম হয়। শিউলি পাতার রস সকাল-বিকাল দুবেলা গরম পানি দিয়ে খেলে গুঁড়া কৃমির উপদ্রবও কমে। গলা বসে গেলে তা খোলার জন্যে শিউলি পাতার রস বেশ উপকারী। শিউলি ফুল হলুদ রং তৈরি করতে ব্যবহার করা যায়। এ ফুলের বোঁটাগুলো শুকিয়ে গুঁড়ো করে পাউডার করে হালকা গরম পানিতে বা জলে মেশালে চমত্কার রং হয়।