যে কোনো উত্সবে মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি প্রায় সবারই থাকে বিশেষ চাহিদা। এই পূজায় পরিবারের সদস্য ও অতিথি আপ্যায়নে ঘরেই তৈরি করুন মজাদার কিছু খাবার। রেসিপিগুলো দিয়েছেন
শেফ শিরিনা রহমান লাবনী
মাওয়ার কেক
উপকরণ :দুধ ১ লিটার, চিনি হাফ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, এলাচ গুঁড়া সামান্য।
প্রণালি :প্রথমে একটা প্যানে দুধ গরম করে নিতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে জ্বাল করতে হবে। এবার অনবরত নাড়তে হবে। নাড়তে নাড়তে যখন দুধের রং একদম বাদামি কালার হয়ে যাবে তখন অল্প অল্প করে চিনি মেশাতে হবে। যখন প্যানের গা ছেড়ে উঠে আসবে আরও কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করতে হবে। যখন একটু শক্ত হয়ে যাবে তখন নামিয়ে একটা এয়ারটাইট বক্সের ঘি ব্রাশ করে বক্সে রেখে দিতে হবে। দুই ঘণ্টা পর নিজের ইচ্ছামতো কেটে পরিবেশন করুন মজাদার মাওয়ার কেক।
গাজরের লাড্ডু
উপকরণ :গাজর কুচি ৩ কাপ, চিনি ২ কাপ, গুঁড়া দুধ ২ কাপ, ঘি ২ চামচ, এলাচ ২টা।
প্রণালি :প্রথমে গাজর কুচি, চিনি, দুধ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করতে হবে। ব্লেন্ড করা হলে এবার চুলায় একটি ফ্রাইপ্যান বসাতে হবে। ফ্রাইপ্যানে ঘি দিয়ে এতে এলাচ দিয়ে নেড়ে ব্লেন্ড করা গাজর দিতে হবে এবং অনবরত নাড়তে হবে। নাড়তে নাড়তে গাজরটা যখন শক্ত হতে থাকবে তখন ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এভাবে গাজরের মিশ্রণটা যখন শক্ত আঠালো হয়ে প্যানের গা থেকে উঠে আসবে, তখন চুলা থেকে নামিয়ে হালকা ঠান্ডা করে লাড্ডুর শেপ করে নিতে হবে। আর তাতেই হয়ে গেল মজাদার গাজরের লাড্ডু।
নারিকেলের নাড়ু
উপকরণ :নারিকেল কুচি এক কাপ, চিনি এক কাপ ও মুড়ি এক কাপ।
প্রণালি :প্রথমে ননস্টিক কড়াই গরম করতে হবে। চুলার তাপমাত্রা মিডিয়াম রাখতে হবে। তারপর নারিকেল দিয়ে নাড়তে হবে পাঁচ মিনিট। তারপর একটু একটু করে চিনি মিশিয়ে নাড়তে হবে। যখন চিনি থেকে পানি বের হবে তখন গুঁড়া করা মুড়ি অর্ধেক মিশিয়ে নাড়তে হবে। তারপর দুই টেবিল চামচ পানি দিয়ে ডেকে দিয়ে পাঁচ মিনিট হালকা তাপমাত্রায় রাখতে হবে। পাঁচ মিনিট পর ডাকনা খুলে নাড়াচাড়া দিয়ে নামাতে হবে। তারপর নাড়ু তৈরি করে গুঁড়া করা মুড়িতে গড়িয়ে নিতে হবে। হয়ে গেল মজাদার নারিকেলের নাড়ু।
বাসমতি চালের পায়েস
উপকরণ :বাসমতি চাল ১ কাপ, চিনি ৪ কাপ, পেস্তা বাদাম ১ চামচ, কাঠ বাদাম ১ চামচ, কাজু বাদাম ১ চামচ, কিসমিস ১ চামচ, এলাচ ৩টা, দারুচিনি ২টা, কেওড়া জল ১ চামচ, গোলাপ জল ১ চামচ, জাফরান এক চিমটি, দুধ ২ কেজি।
প্রণালি :প্রথমেই চাল ধুয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং দুধ জ্বাল দিতে হবে। দুধ যখন ফুটতে থাকবে তখন চাল, চিনি ও লবণ দুধে দিয়ে দিতে হবে। এরপর চাল ভালো করে সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত একটু পর পর নেড়ে দিতে হবে; যেন চাল হাড়ির তলায় লেগে পুড়ে না যায়। চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে কেওড়া জল গেলাপ জল- সব দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার নামিয়ে বাদাম, কিসমিস ও জাফরান দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।