দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
টুর্নামেন্টটা শুরুর আগেই তামিম ইকবাল বলেছিলেন, এই আসরটা তরুণদের জন্য নিজেদের প্রমাণের একটা মঞ্চ।
প্রথম ম্যাচেই তামিমের কথাটা রেখেছেন যুব ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান, বিশ্বকাপজয়ী তারকা তৌহিদ হূদয়। বাজে পরিস্থিতিতে বড় বড় ব্যাটসম্যানরা যখন খাবি খাচ্ছিলেন, তখন সাবলীল ব্যাটিং করেছেন এই তরুণ। চোখ জুড়ানো সব শটে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। ৬৭ বলে ৫২ রান করে পথ দেখিয়েছেন টুর্নামেন্টে তারুণ্যের বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা নাজমুল হাসান শান্তর দলকে।
প্রথম ম্যাচেই ম্যাচসেরা হওয়ার পর একটু ভেসে যাওয়ার কথা হূদয়ের। মনে হতে পারে, নিজেকে প্রমাণ করে ফেলেছি। কিন্তু হূদয়ের ভেতরটা দেখা গেল খুবই পরিণত। তিনি বেশ চোয়াল শক্ত করেই বললেন, নিজেকে প্রমাণের এখনো সময়ই আসেনি। তামিমের কথা মেনে নিয়েও বলছিলেন, ‘তামিম ভাই ঠিক বলেছেন। এই ধরনের টুর্নামেন্ট সবার জন্য বড় অপরচুনিটি। কিন্তু আমি মনে করি না যে, এখানে কিছু ভালো করে ফেলেই আমি জাতীয় দলে ঢোকার সুযোগ পেয়ে যাব। সেটা করার জন্য অনেক দূর যেতে হবে। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিজেকে তৈরি করার অনেক বাকি আমাদের।’
হূদয় এই কথাটা বারবারই বললেন। বললেন যে, বাইরে থেকে দেখে যাই মনে হোক, তাদের আরো প্রস্তুত হতে হবে। কিন্তু যে উইকেটে তিনি সাবলীল ছিলেন, সেখানে বাকি তারকারা কেন পারলেন না? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হূদয় আরো কৌশলী হলেন, ‘উইকেট একটু স্লো ছিল। ব্যাটিং করা একটু কঠিন। তবে মূল কারণ হলো, আমরা সবাই অনেকদিন পর কম্পিটিটিভ ম্যাচ খেলেছি। তাই প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং করা সবার জন্য কঠিন ছিল। এটা আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।’
একটা জিনিস বোঝা গেল—আমাদের বিশ্বজয়ী তরুণরা কেবল খেলায় নয়, কথাতেও বেশ পরিণত!
এসব কাঠখোট্টা কথা শুনে তাই হতাশ হবেন না। এই টুর্নামেন্টকে জাতীয় দলে ঢোকার দরজা হিসেবে না দেখলেও এটা কিন্তু হূদয়ের কাছে অনেক বড় একটা টুর্নামেন্ট। সেটার কারণ হলো সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলতে পারা। আর এখানে শেখার একটা ব্যাপার আছে। বেশ আবেগী হয়েই হূদয় বললেন, ‘সিনিয়রদের সঙ্গে আমি প্রিমিয়ার লিগ খেলেছি। আমার কাছে সবসময়ই এটা দারুণ একটা ব্যাপার মনে হয়। এবার ওনাদের সঙ্গে একই হোটেলে থাকছি, ওনাদের বলে খেলছি, একসঙ্গে নেট করছি, ড্রেসিংরুমে থাকছি। প্রতি মুহূর্তে কিছু না কিছু শেখা যায়। আমি শিখছি।’
হূদয়ের শেখার শুরু আজকে নয়। বেশ আগে থেকেই বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের বড় তারকা তিনি। বাংলাদেশ যুব দলের বিশ্বকাপ জয়ের পথে হূদয় হয়তো খুব বেশি ছাপ রাখতে পারেননি। কিন্তু ঐ দলের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন তিনিই। যুব পর্যায়ের একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ (১৬২৪) রান স্কোরার তিনি এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, পাঁচটি সেঞ্চুরির মালিক তিনি।
হূদয় জানেন এতে তার ওপর এখন একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আর সেটা মেনে নিয়েই বলছিলেন, ‘আগে আমি ভাবতাম যে, লোকে নাম জানে, তাই আমাকে পারফরম করতে হবে। কিন্তু এখন বুঝি যে, আমার কাজই হলো রান করা। রান করলে সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’
তা-ই হোক, ক্রিকেটটা হূদয়ের জিম্মাতেই থাক।