দুঃখজনক হলেও সত্য, যাঁরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন তাঁরা নিজ থেকে শিক্ষার্থীদের অন-লাইন ক্লাসে যুক্ত করার কোনো চেষ্টা করেননি। এমনকি তাদের খবরও নেননি। রাষ্ট্র যেখানে শীতকালীন করোনার দ্বিতীয় আঘাতের আশঙ্কা করছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিকে কীভাবে সচল রাখা যায় তা নিয়ে ব্যস্ত। সে সময়ে সামাজিক দূরত্ব না মেনে জাতীয়করণের জন্য ঢাকাসহ সারা দেশে নিয়মিত জমায়েত করা কতটুকু নৈতিক? কিন্তু ক্লাসের কথা এলেই করোনার দোহাই দেওয়া হয়! স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণহারে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন এবং ধারাবাহিকভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিককে করার পরিকল্পনা ছিল। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির দুরবস্থায় শিক্ষাসহ সবকিছু পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু শিক্ষক সম্প্রদায় কোনো রকম প্রতিবাদ সে সময়ে করেনি। যা হোক, কিছুদিন আগে উচ্চতর গ্রেডের জন্য প্রাথমিকের শিক্ষকবৃন্দ আন্দোলন করলেন। অথচ নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন কোনো ক্লাস না করেই। যেসব শিক্ষক বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত এবং প্রায় সাতমাস বেতন পাচ্ছেন না—তাঁদের কাছে জাতি কী প্রত্যাশা করবে? সত্যিকার অর্থে শিক্ষকদের প্রথম কাজ হলো জাতির ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবা ও কাজ করা। পাশাপাশি জীবন সংসার সচল রেখে নৈতিকবোধ সম্পন্ন একটি জাতি উপহার দেওয়া। সেখানে তাঁদের নৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠা দুঃখজনক। জাতীয়করণের পক্ষে সবাই—কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা না করতে পারাটা লজ্জার।
মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ,
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, ঢাকা