বাঙ্গালী নদীতে পানি বৃদ্ধি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা

শেরপুরে সাহেববাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাঁধের একাংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় বিনোদপুরসহ বাঁধ এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। এদিকে স্থানীয়রা নিজেদের টাকা দিয়ে বালু ও মাটিভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে করতোয়া নদীর পানিও বেড়েছে। শেরপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিমাই ঘোষ জানান, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তার ওয়ার্ডের নামা ঘোষপাড়া, পূর্ব দত্তপাড়া, উত্তর সাহাপাড়া ও দক্ষিণ সাহাপাড়া এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে রাস্তা। পানিবন্দি হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে ২০ থেকে ৩০ পরিবারের লোকজন বাসাবাড়ি ছেড়ে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শেরপুর ডিজে হাইস্কুল এবং ১৫টি পরিবার পৌরসভা প্রাঙ্গণ ও পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া শেরপুর উত্তরবাহিনী পৌর মহাশ্মশান বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় সত্কার ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুরসহ বাঁধ এলাকার বাসিন্দা আতিকুর রহমান, সোলায়মান আলী, আজিজুর রহমান, মোখলেছুর রহমানসহ অনেকেই জানান, কয়েকদিন ধরেই বাঙ্গালী নদীর পানি বাড়ছে। এতে সাহেববাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। নিজেরাই টাকা দিয়ে বালু ও মাটিভর্তি বস্তা ফেলে বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় এটি ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ক্ষতি নিরূপণ ও বানভাসিদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পেলে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হবে। এরপর বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান তিনি। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি রিং বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া বাঙ্গালী নদীর পানি কমে গেলে ঐ বাঁধে স্থায়ীভাবে কাজ করা হবে। এজন্য একটি প্রকল্প এরই মধ্যে অনুমোদন হয়ে গেছে এবং কাজের জন্য ঠিকাদারও নিযুক্ত হয়েছেন। তাই শঙ্কার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।