রাসায়নিক সারবিহীন লাউ চাষে ভাগ্য ফিরেছে কৃষকের

খোন্দকার এহিয়া খালেদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শে বন্যার মধ্যে লাউ চাষ করে ভাগ্য ফিরেছে অনেক কৃষকের। উচ্চফলনশীল জাতের চারা রোপণের পাশাপাশি আধুনিক কাটিং পদ্ধতি প্রয়োগে এসেছে এই সাফল্য। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই আর্গানিক এই চাষ পদ্ধতিতে উত্পাদন খরচ কম লাগছে। ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরগোবরা গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এনএটিপি প্রোগ্রামের আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শে  বন্যার মধ্যেই জুনের শেষের দিকে ৫২ শতাংশ জমিতে সারা বছর ফলন দিতে সক্ষম উচ্চফলনশীল জাতের লাউ আবাদ করি। লাউ চাষে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে গাছের গোড়ায় কোকো ডাস্ট ব্যবহার করেছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক ডগা কাটিং পদ্ধতি প্রয়োগে এসব লাউগাছে ফলও ধরেছে তিন থেকে চার গুণ বেশি। বাজারে লাউয়ের ভালো দাম পেয়ে অনেক লাভ হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্বতী বৈরাগী বলেন, আইয়ুব আলীর মতো লাউ চাষে জেলার আরো ৫০ জন কৃষকের ভাগ্য খুলেছে। তারা কৃষি সম্প্রসারণের আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শে অর্গানিক পদ্ধতির সেক্স ফরোমেন ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উত্পাদন প্রযুক্তির লাভজনক লাউ চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করেননি তারা। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ বলেন, করোনা ও বন্যার মধ্যে নতুন এ পদ্ধতিতে লাউ চাষাবাদ করে ৫০ জন কৃষক মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। আমরা এ পদ্ধতির চাষাবাদ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের ডিডি ড. অরবিন্দু কুমার রায় বলেন, এ পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উত্পাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা গোপালগঞ্জবাসীর পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। তাই নতুন প্রযুক্তির এ চাষ পদ্ধতি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষক লাভবান হবেন।