হাতের মেহেদীর রঙ না মুছতেই লাশ হলো সাদ্দাম

বিয়ের এখনো দুই মাস পেরোয়নি। হাতের মেহেদীর রঙও মুছে যায়নি। গ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে রবিবার চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ফেরার পথে ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বাস উল্টে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান কুমিল্লার সাদ্দাম হোসেন। তিনি জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। রবিবার রাত ১১টার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার পর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নিহত সাদ্দামের গ্রামের বাড়িতে এখন চলছে বাবা-মা, নববিবাহিতা স্ত্রী ও স্বজনদের শোকের মাতম। সোমবার দিনভর ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কাঁদেন তার বাবা-মা।   

সোমবার ( ১২ অক্টোবর) দুপুরে নিহতের চাচাতো বোন তাসলিমা আক্তার জানান, সাদ্দাম হোসেন (২৮) চট্টগ্রাম প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিতে চাকুরি করতেন। তিনি বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। শনিবার দিবাগত শেষ রাতে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে তিনি চট্টগ্রামগামী নৈশ কোচে উঠেন। ভোর বেলায় আমরা দুর্ঘটনার খবর পাই। সাদ্দাম অত্যন্ত বিনয়ী প্রকৃতির ছিলেন।

নিহতের বাবা তাজুল ইসলাম জানান, আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সাদ্দাম ছিল সবার বড়। আমার অভাবের সংসারে সে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে মাস্টার্স পাসের পর চট্টগ্রামে চাকুরী নেয়। তার ছোট ২ ভাই এখনো লেখাপড়া শেষ করতে পারেনি। একজন কলেজে পড়ছে, অপরজন একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়ে। গত ১৪ আগস্ট সাদ্দামের বিয়ে হয়েছিল। এখনো তার বিয়ের দুই মাস পার হয়নি। স্বামীকে হারিয়ে তার স্ত্রী উর্মী এখন পাগলপ্রায়। পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল বড় সন্তান সাদ্দামকে নিয়ে। উপার্জনক্ষম বড় সন্তানকে হারিয়ে ওই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

এর আগে রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বাস উল্টে যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল কুমিল্লার সাদ্দাম তাদেরই একজন। ওই ঘটনায় আরও ১৫ জন আহত হয়। 

ইত্তেফাক/এসআই