রংপুরে ধর্ষককে দিগম্বর করে গণধোলাই

চট্টগ্রামে কলেজছাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে পাঁচ ধর্ষক গ্রেফতার

রংপুরে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষককে দিগম্বর করে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লায় মামলা করে প্রাণভয়ে ধর্ষিতা গৃহবধূর পরিবার এলাকাছাড়া, ধর্ষক এখনো গ্রেফতার হয়নি। গৃহবধূর গোপন ভিডিও ধারণ করায় জয়পুরহাটে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ধর্ষণের অভিযোগে কলেজ শিক্ষার্থী, পাবনার আটঘরিয়ায় কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোর, নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাক্প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় একজন, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বিধবা গণধষর্েণর প্রধান আসামি এবং রায়পুরে প্রতিবন্ধী নববধূকে ধর্ষণের চেষ্টায় ঘটককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শিশুগৃহকর্মী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর জানান, মহানগরীতে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সাহিদার রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে দিগম্বর করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনগণ। রবিবার সন্ধ্যায় মহানগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম নীলকণ্ঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাহিদার ঐ এলাকার মৃত নছর মুন্সীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঐ এলাকার এক মাছ ব্যবসায়ীর পাঁচ বছর বয়সি মেয়েকে পাশের একটি নার্সারিতে ফুঁসলিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে সাহিদার। এ সময় মেয়েটির চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধারসহ সাহিদারকে দিগম্বর করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুমিল্লা কার্যালয় ক্যাম্পাস মসজিদের মুয়াজ্জিন আজহারুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবুল চান্দিনা উপজেলার দোতলা মুন্সিবাড়ির শাহ আলমের ছেলে এবং কুমিল্লা নগরীর মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকায় ভাড়া থাকেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার ১৬ দিন অতিক্রান্ত হলেও অভিযুক্ত বাবুল গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, পৌর শহরের সবুজনগর এলাকার এক গৃহবধূর অশ্লীল দৃশ্য ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে রবিবার রাতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার খান বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পরই অভিযুক্ত সোহেল রানাকে শহরের আমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে পৌর এলাকার পাঁচুরচক সোনারপাড়া মহল্লার আবেদ আলীর ছেলে।

এদিকে চট্টগ্রাম অফিস জানায়, স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মো. রিয়াজ নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা সদরঘাট থানায় মামলা দায়েরের পর গতকাল সোমবার পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত রিয়াজ চট্টগ্রাম ইসলামীয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, রামগতিতে গণধর্ষণের শিকার বিধবা (৩৮) নারীর দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. করিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে চট্টগ্রামের বাকুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত করিম উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের চরকলাকোপা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। পূর্ব বিরোধের জের ধরে ৩ অক্টোবর রাতে উপজেলার চরকলাকোপা এলাকার বিধবা এক নারীকে স্থানীয় পাঁচ যুবক ঘরে ঢুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, রায়পুরে শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী এক গৃহবধূকে (২২) জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মো. বোরহান নামের এক লম্পট ঘটককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে সদর উপজেলার দালালবাজার ইউপির নন্দনপুর গ্রামের দিনমজুরের বাক্ ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়ের সঙ্গে বোরহান তার প্রতিবন্ধী চাচাত ভাইয়ের দ্বিতীয় বিয়ে করান। গৃহবধূর প্রতিবন্ধী স্বামী দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর গৃহবধূ আগের পক্ষের দুই কন্যাকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে একা থাকেন। এ সুযোগে বোরহান বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসামি বোরহান কৌশলে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গৃহবধূর ডাক চিত্কারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হলে বোরহান পালিয়ে যায়। পরের দিন যুবলীগ নেতা রিয়াজসহ প্রায় ৫০/৬০ ব্যক্তির উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে ঐ নববধূর স্বামীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসা করা হয়।

আটঘরিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, আটঘরিয়ায় ১৬ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় তানভীর আহম্মেদ (১৫) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত কিশোর নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার দিয়ারগারফা গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে। আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিক জানান, পৌর এলাকার দেবোত্তর মহল্লায় রবিবার রাত ৯টার দিকে ধর্ষক তানভীর আহম্মেদ ঐ কিশোরীর ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে।

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের মরিচপুর গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসা এক বাক্প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মজনু মিয়া নামের এক ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কেন্দুয়া থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রবিবার রাতে তাকে উপজেলার সীমান্তবর্তী

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, নালিতাবাড়ীর পল্লীগ্রামে শিশুগৃহকর্মী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গৃহকর্তা হারুন মণ্ডলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এছাড়া এ মামলার আরো পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, উপজেলার গাছগড়া গ্রামের এক দিনমজুর তার কন্যাশিশুকে (১০) উপজেলার ঘাইলারা গ্রামের সৈয়দ আলী মণ্ডলের ছেলে হারুনুর রশিদ ওরফে হারুন মণ্ডলের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠায়। প্রায় চার মাস ধরে রাতে গৃহকর্তা হারুন পাশের কক্ষে থাকা গৃহকর্মীকে নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, বন্ধুর সঙ্গে  বেড়াতে গিয়ে এক তরুণী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ  পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ ঐ তরুণীর  বন্ধুসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে তিন জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও দুই জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল সোমবার সীতাকুণ্ড পৌরসদরের জলসা হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন তরুণীর বন্ধু নয়ন, মো. আলী হোসেন, জামাল উল্লাহ রিফাত, জলসা হোটেলের ব্যবস্থাপক নুর উদ্দিন ও কর্মচারী বারেক।