যেখানে বিচারই হয় না সেখানে আইন পরিবর্তনে কী লাভ ------- মালেকা বানু

বিশিষ্ট নারী নেত্রী বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেছেন, এখন দেশে যে অবস্থা প্রতিদিন ধর্ষণ হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল আন্দোলন করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে একটা পদক্ষেপ নিতে হতো। সে কারণে দ্রুততার সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবনের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড তাই ‘মন্দের ভালো’। আমরা কী বলতে পারবো ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবনই কতজনকে দেওয়া হয়েছে? যেখানে বিচারই হয় না, ধর্ষকরা পার পেয়ে যায় সেখানে আইন পরিবর্তন করেই কী লাভ? দেশের পরিস্থিতি হচ্ছে ধর্ষকদের বিচার হয় না। ফলে যাবজ্জীবনের পরিবর্তে সর্বোচ্চ শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড করা হচ্ছে তা শুধু লোক দেখানো আইন করার পর্যায়ে যেন না থাকে। এর কার্যকর হওয়া দেখতে চাই। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে থাকলে ধর্ষকরা, নারীর ওপর যারা জোর খাটাতে চায় তারা ভয় পাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারকে দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করুন। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বন্ধে কঠোর হোন। ধর্ষণের পুলিশী তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়া নারীর প্রতি সহনশীল করুন। কিন্তু তা হচ্ছে কোথায়! বিচার প্রক্রিয়ায় গেলে নারীকে দ্বিতীয়বার ধর্ষিত হতে হয়। ধর্ষিতাকে প্রমাণ করতে হয় তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষক পার পেয়ে যায়। ৬ মাসের মধ্যে বিচার করার নিয়ম থাকলেও ৬ বছর, ১২ বছর পার হয়ে যায়, বিচার হয় না। তাই সর্বোচ্চ শাস্তি করে কিছুই হবে না, যদি না তা বিচারের ক্ষেত্রে কার্যকর করা না যায়। কারণ ধর্ষণ করেও যেখানে রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যায়, সেখানে এই মৃত্যুদণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি  কোন লাভ বয়ে আনবে কি না সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে।