রাজধানীর ৪৫ শতাংশ মানুষের করোনা অ্যান্টিবডি পজিটিভ

রাজধানীর ৪৫ শতাংশ মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) অ্যান্টিবডি পজিটিভ পাওয়া গেছে। বস্তি অঞ্চলে এই হার প্রায় ৭৪ শতাংশ। এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার বিকালে ঢাকায় কোভিড-১৯-এর প্রাদুভাব ও বিস্তৃতি বিষয়ে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আইইডিসিআরের পক্ষে গবেষণাটি পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), সহযোগিতায় ছিল উন্নয়ন সংস্থা ইউএসআইডি। জরিপের তথ্য তুলে ধরে সেমিনারে আরো জানানো হয়, রাজধানী ঢাকার ২৫টি ওয়ার্ডে ১২ হাজার ৬৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সি ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সির সংখ্যা ১৮ শতাংশ। গত ১৮ এপ্রিল থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে জরিপ করে এ তথ্য পাওয়া গছে। এছাড়া দ্বিতীয়বার কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার কিছু তথ্যও বাংলাদেশে পাওয়া গেছে বলে সেমিনারে জানানো হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. এ বি এম খুরশীদ, ইউএসএআইডি মিশনের পরিচালক ডেরিক এস ব্রাউন ও আইসিডিডিআর,বির বাংলাদেশ নির্বাহী ড. তাহমিদ আহমেদ। সেমিনারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রথম পর্যায়ের নানা তথ্য ও গবেষণা উপাত্ত তুলে ধরেন।

এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৭২ জন। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭৩৮ জন হলো। আর মোট মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৫৫ জনে দাঁড়াল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ১ হাজার ৫৩১ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯১ জন হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১০৯টি ল্যাবে ১৩ হাজার ২২৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২০ লাখ ৮৪ হাজার ২২২টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ১৩ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৭ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।