করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তত্পরতা বেড়েছে। সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বড় ভাইদের নির্দেশে তারা চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখলসহ নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। এখনই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে এসব কিশোর বড় ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। ফলে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন নগরজুড়ে অভিযান শুরু করেছে। ইতিমধ্যে চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের কয়েক জনকে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নগরজুড়ে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং রয়েছে। গলির মুখে, রাস্তার মোড়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে, মার্কেটে ও বিভিন্ন স্থানে দলবেধে আড্ডা দিচ্ছে কিশোর গ্যাং। অনেক জায়গায় স্কুল কলেজের ছাত্রী ও চলার পথে মহিলারা তাদের হাতে হয়রানির শিকার হচ্ছে। বড় ভাইদের নির্দেশে তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিচ্ছে। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বড় ভাইদের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে। এলাকা ভিত্তিক তারা মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে পাড়া মহল্লার নিরীহ মানুষ তাদের নানামুখী নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। পুলিশ জানায়, প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ও অভিভাবকরা কিশোর গ্যাং নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করছে। কিশোর গ্যাংয়ের কারণে অনেকেই বাসা পরিবর্তন করেছে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আলী হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনা পরবর্তী নগরজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ংকর হয়ে উড়েছে। তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে। এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা কিশোর গ্যাং নিয়ে অভিযোগ করছে। তারা মাদক, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। তাই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন নগরজুড়ে অভিযান শুরু করেছে। ইতিমধ্যে কয়েক জন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।’
নগরীর লালখান বাজার, ঝাউতলা, পলিটেকনিক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ংকর তত্পরতা দেখা যাচ্ছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে কিছু বড় ভাই নামধারী লোক নানা কাজে কিশোর গ্যাং ব্যবহার করছে। নেতাদের অন্তঃকোন্দল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারি হানাহানি হচ্ছে। এদেরকে কঠোরভাবে দমনে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে, র্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ বেপরোয়া রূপে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং কালচার। কিশোর গ্যাং দ্বারা পরিচালিত অপরাধ যেন একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিতে যাচ্ছে। উঠতি বয়সের ছেলেরা একত্রিত হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে নানা ধরনের অসামাজিক তত্পরতা। বিভিন্ন নামে এলাকাভিত্তিক নতুন নতুন সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছে কিশোর গ্যাং। র্যাব-৭-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এসব কিশোর গ্যাং ওপর ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।