বিদেশে চাকরির নামে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ‘ভিসা গাইড সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে র্যাব। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান-এমডিসহ চার জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর শাহআলী মার্কেটে নবম তলায় ভিসাগাইড সেন্টারে এ অভিযান চলে। র্যাব-৩-এর নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন।
র্যাব জানায়, রিক্রুটমেন্ট লাইসেন্স ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশি কোম্পানিতে কাজের জন্য লোক নিয়োগের চটকদার বিজ্ঞাপন দেয় প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী সময়ে কানাডা, জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আগ্রহীদের কাছ থেকে গত দুই বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাত্ করে তারা। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানোসহ জীবননাশের হুমকি দেয় তারা। পরে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৩-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডি, পরামর্শক, কাউন্সিলর এবং আইটি স্পেশালিস্টকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সি এস হাফিজ এবং এমডি মোশাররফ হোসেনকে অভিবাসী আইনে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কাউন্সেলিংয়ের সঙ্গে জড়িত আরিফুল ইসলাম ও আইটি স্পেশালিস্ট সুজন রনিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে।