পাঁচ বছর যাবত্ অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশন। উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে স্টেশনটি। ব্যবহার হয়নি কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের কোনো যন্ত্রপাতি। ফলে কোনো কাজেই আসছে না কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটি।
ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, বিদেশ থেকে আসা পশুপাখি ও প্রাণিজ খাদ্যের মাধ্যমে প্রাণী ও মানুষের দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে ২০১৪ সালে ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরে ২০ শতাংশ জমির ওপর প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশন নির্মাণ হয়। উদ্বোধন হয় ২০১৫ সালে। উদ্বোধন হলেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি জনবল। নিরাপত্তা প্রহরী ও অফিস সহায়ক ছাড়া কোনো লোক নেই এই প্রতিষ্ঠানে। কার্যক্রম না থাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ।
কামালপুর স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল মোকাদ্দেছ রিপন বলেন, সরকারের এই অফিসটির কার্যক্রম চালু হলে গরুসহ নানা গবাদি পশু এই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হবে। তখন সরকারের রাজস্ব বাড়বে। আর এখন এই সীমানা দিয়ে চোরাই পথে গবাদি পশু ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। এ ব্যাপারে প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের নিরাপত্তা প্রহরী আবদুল আজিজ জানান, আমি শুধু রাতের বেলা পাহারা দেই।
এছাড়া একজন অফিস সহায়ক আছেন, কাজ না থাকায় তিনি আসেন না। কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার পাল বলেন, বিদেশ থেকে আসা পশুপাখি ও প্রাণিজ খাদ্য পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়। স্টেশনে প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। স্টেশনে স্থাপিত ল্যাবরেটরি ও কোয়ারেন্টাইন শেডে প্রাণী ও প্রাণিজ খাদ্য ২৪ ঘণ্টা রেখে পর্যবেক্ষণের পর ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠানটির চালুর বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু হবে।
ইত্তেফাক/এসআই