‘পুলিশি নির্যাতনে’ মারা যাওয়ার আগে রায়হান আহমদ পরিবারের কাছে ফোন করে তাকে বাঁচাতে ফাঁড়িতে দ্রুত টাকা নিয়ে যেতে বলেছিলেন।
রবিবার দিবাগত রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় এ কথা উল্লেখ করেন নিহত রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি (২২)।
মামলায় উল্লেখ করেন, শনিবার বিকাল ৩টার দিকে তার স্বামী রায়হান আহমদ নিজ কর্মস্থলে বেরিয়ে যান। পরদিন ভোর ৪টা ৩৩ মিনিটে একটি মোবাইল নম্বর থেকে শাশুড়ি (রায়হানের মা সালমা বেগম)-এর মোবাইলে কল দিলে সেটি রিসিভ করেন রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ।
এসময় রায়হান আর্তনাদ করে বলেন, তিনি বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছেন। তাকে বাঁচাতে দ্রুত টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলেন। এ কথা শুনে রায়হানের চাচা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে রায়হান কোথায় জানতে চাইলে দায়িত্বরত একজন পুলিশ বলেন, সে ঘুমে। যে পুলিশ রায়হানকে ধরে এনেছিলেন, তিনিও চলে গেছেন। ঐ পুলিশ হাবিবুল্লাহকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফাঁড়িতে আসার কথা বলেন।
হাবিবুল্লাহ আবারও সকাল পৌনে ১০টার দিকে ফাঁড়িতে গেলে দায়িত্বরত পুলিশ জানান, রায়হান অসুস্থ। তাকে এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তখন রায়হানের চাচা ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন রায়হান মারা গেছেন।
তাহমিনা আক্তার তান্নি মামলায় আরও বলেন, আমার স্বামীকে কে বা কারা বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে পুলিশি হেফাজতে রেখে হাত-পায়ে আঘাত করে এবং হাতের নখ উপড়ে ফেলেছে। পুলিশ ফাঁড়িতে রাতভর নির্যাতনের ফলে আমার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানান রায়হানের স্ত্রী।
এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা হয়েছে আরও তিন পুলিশ সদস্যকে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ