ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে কৃষকের ক্ষেতে হানা দিয়ে চলেছে দৃর্বৃত্ত। রাতের আঁধারে একের পর এক কেটে ফেলা হচ্ছে ফসলের ক্ষেত। কখনও ফসল কেটে সাবাড়, কখনও পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নিধন আবার কখনও ফসলের ক্ষেত বিষাক্ত কীটনাশক স্প্রে করে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে এতো কিছু পরও এই অপরাধে এখনও সনাক্ত করা যায়নি কাউকেই।
সর্বশেষ গত সোমবার দিবাগত রাতের আধাঁরে কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের গয়েসপুর গ্রামের মাঠে বর্গাচাষী, দরিদ্র কৃষক বাপ্পির ১৪ কাঠা বর্গা নেওয়া জমির পুঁইশাক কেটে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। এই ১৪ কাঠা জমিতে তার প্রায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, বিগত কয়েক মাস ধরে শত্রুতা করে মানুষের অগোচরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে সাবাড় করে ফেলা হচ্ছে। গত ২০ জুন বাবরা গ্রামের আলী বকসের দুই ছেলে কৃষক টিপু সুলতান ও শহিদুল ইসলামের দুই ভাইয়ের ১৫ কাঠা জমির কলাগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। একইভাবে ৩ জুলাই মল্লিকপুর গ্রামের মল্লিক মন্ডলের ছেলে সবজি চাষী মাজেদুল মন্ডলের বেথুলী মাঠের আড়াই বিঘা জমির তিন শতাধিক পেঁপে গাছ কেটে দেয়। এর ঠিক চারদিন পরে ৭ জুলাই পৌর এলাকার ফয়লা গ্রামের তাকের হোসেনের ছেলে আবু সাঈদের ১৫ শতক জমির করলা ক্ষেত কেটে দেয়। ১৩ জুলাই বারোবাজারের ঘোপ গ্রামের মাহতাব মুন্সির ছেলে আব্দুর রশিদের দেড় বিঘা জমির সিমগাছে কীটনাশক স্প্রে করে পুড়িয়ে দেয়। ৯ আগষ্ট তিল্লা গ্রামের সতীশ বিশ্বাসের ছেলে কৃষক বিকাশ বিশ্বাসের ১৫ শতক করলা ক্ষেত কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। ২৮ আগস্ট সাইটবাড়িয়া গ্রামের মাছচাষী ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম নান্নুর পুকুরে গ্যাস বড়ি দিয়ে মাছ নিধন করা হয়। এর তিনদিন পর ৩১ আগস্ট একই ইউনিয়নের রাড়িপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ৪৮ শতক মুল্যবান দার্জিলিং লেবু ও থাই পেয়ারার কলম কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগে ২৫ আগস্ট বলরামপুর গ্রামের মাছচাষী মমরেজ আলীর পুকুরে একইভাবে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার চাপলি গ্রামের বর্গাচাষী আতিয়ার রহমানের ৫০ শতক জমির লাউ ক্ষেতের সবুজ গাছগুলো কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ৫নং শিমলা রোকনপুর ইউনিয়নের বড় শিমলা গ্রামের নূর ইসলামের এক বিঘা জমিতে চারশ লাউগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্ত।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাফুজুর রহমান মিয়া জানান, ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। মামলার পর তদন্তপূর্বক যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসি