নারায়ণগঞ্জে কেয়ারটেকার পাকুন্দিয়া ও রায়পুরে যুবক গ্রেফতার

ইত্তেফাক ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জে দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি বাড়ির কেয়ারটেকার এবং কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৪ বছরের কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ধর্ষণ ও চাঁদাবাজি মামলার এক ফেরারি আসামিকে দুই বছর পর গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে আবু বক্কর (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কান্দাপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক আবু বক্কর ঐ বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার পর থেকে বাড়ির মালিক পলাতক। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, গত ৫ অক্টোবর রাতে মৌচাক এলাকার পোশাক কারখানায় কাজ শেষ করে দুই বোন (১২ ও ১৫ বছর) বাসায় ফেরার পথে নাতনি বলে ডেকে নিয়ে যায় আবু বক্কর। পরে ঐ বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে দুই বোনকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এরপর তাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। ঘটনার সাত দিন পর সোমবার রাতে দুই বোনসহ পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে অভিযোগ দেয়। এরপর আবু বক্করকে গ্রেফতার করা হয়।

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, পাকুন্দিয়ায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আরিফ নামের এক যুবককে মঙ্গলবার সকালে পুলেরঘাট বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে উপজেলার ছোট আজলদী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। সোমবার রাতে একই গ্রামের ঐ নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে আরিফের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। যদিও আরিফের পরিবারের দাবি, মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেই ঐ নারী মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেলেকে হয়রানি করছে। 

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, পৌরসভার নওদাবন্ডবিল গ্রামে ১৪ বছর বয়সি এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সোমবার রাতে প্রতিবেশী টিক্কা ঐ কিশোরীকে তার ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। তবে ধর্ষক টিক্কা পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি মামলার ফেরারি আসামি নিজাম উদ্দিন মিশুকে দুই বছর পর সোমবার রাতে চৌমুহনী শহরের গোলাবাড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী চৌমুহনী শহরে বাসা ভাড়া করে থাকাবস্থায় স্থানীয় সন্ত্রাসী মিশু ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণ ও মোবাইল ফোনে তা ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে প্রবাসীর স্ত্রীর পিতার নিকট ধারণকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ২০১৮ সালের ৩১ মে মামলা রুজু করেন।

ধর্ষণ মামলা তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ

এদিকে বরিশাল অফিস জানায়, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মনিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার সুষুম তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাননি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবার। গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঐ তরুণী বলেন, চাকরির তদবিরের কথা বলে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল বরিশাল নগরীর আগরপুর রোডে বন্ধু মিঠু সিকদারের বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে তত্কালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমদাদুল হক মনির। ঐদিনই তথাকথিত কাজী ডেকে বিয়ের কথা বলে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেয় সে। এরপর স্ত্রী পরিচয়ে মনির তার সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হয়। একপর্যায়ে বিয়ের কাগজপত্র চাইলে তালবাহানা শুরু করে এবং বিয়ে হয়নি বলে জানায়। এ ঘটনায় গত ২৫ আগস্ট মনিরের বিরুদ্ধে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। মামলার পর থেকে আসামি তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেন তরুণী।