রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নারী ও শিশু ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংশোধিত আইন কার্যকর হলো। গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইনটি কার্যকর করা হয়। সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০২০ অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে সংসদের অধিবেশন না থাকায় এবং আইনটির কার্যকারিতা জরুরি হয়ে পড়ায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করে তা কার্যকর করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ আকারে জারি করা আইনের ৯ ধারায় ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। ঐ আইনের ৯(১) উপধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে’ দণ্ডনীয় হবেন। ৯(৪) উপধারার দফা (ক)-এ বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি ‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে’ দণ্ডনীয় হবেন। এছাড়া ঐ আইনের ১১(গ)               ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। ঐ ধারায় যৌতুকে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগে আপসের বিধান ছিল না। এখন এই সংশোধনী আনায় এ ধরনের বিরোধে আপসের সুযোগ সৃষ্টি হলো।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর কাছ থেকে গৃহবধূকে ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে নারীকে নির্মম নির্যাতনসহ দেশব্যাপী ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভের জন্ম হয়। তারা রাজপথে নেমে ধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদের পাশাপাশি আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার দাবি জানান। এরকম বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার ঘোষণা দেন। যদিও বিদ্যমান আইনে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন। সেই বিধান সংশোধন করে সেখানে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।