বিদেশে ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সহযোগীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন ‘দুর্নীতি রপ্তানি’র তথ্য উল্লেখ করে, অর্থ পাচারসহ নানা ধরনের ক্ষতির ঝুঁকির বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছে টিআইবি। পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্য সহযোগী রাষ্ট্রগুলোকে তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, নিজস্ব আইন ও তার প্রয়োগ শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি খুবই হতাশাজনক যে, বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলো বিদেশে ঘুষ লেনদেন বন্ধের বিষয়ে তাদের প্রদত্ত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এই দেশগুলোর তালিকায় চীন, জাপান, ভারত, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো দেশ বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগী।
টিআইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের বিষয়ে জি-২০ এর অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের অর্ধেকই আশঙ্কাজনকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৪৭টি দেশের মধ্যে বিশ্বের রপ্তানি বাণিজ্যের ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা মাত্র চারটি দেশ বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করেছে। ২০১৮ সালে এমন দেশের সংখ্যা ছিল সাতটি, যারা মোট বৈশ্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের ২৭ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করত। বাস্তবিকভাবে ৪৭টি দেশের মধ্যে ৩৪টি দেশ কার্যত এ সংক্রান্ত আইনের কোনো প্রয়োগই করেনি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ চীন ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বৈদেশিক ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারেনি; অথচ চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে এবং অনেক দেশই তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। গত চার বছরে সিঙ্গাপুর মাত্র একটি ঘটনায় তদন্ত করেছে এবং একটি মামলায় শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছে।