স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা জেলা শহরে চার লেন সড়ক নির্মাণের জন্য দুই পাশের স্থাপনা ভাঙার কাজ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই এ কাজ করছেন শ্রমিকরা। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ স্থাপনা ভাঙার কাজ করতে গিয়ে ইমারতের বিম চাপায় এক জন নির্মাণ শ্রমিক ও এক জন পথচারী মারা গেছেন।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলা শহরের বড় মসজিদ থেকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর চার লেন কাজের উদ্বোধন করা হয়। সম্প্রতি এ চার লেন নির্মাণকাজের জন্য সড়কের দুই পাশে অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে দোকানের মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, এসব স্থাপনা ও ভবন ভাঙার সময় দু-একটি ছাড়া কোথাও কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
গাইবান্ধা যুব নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, সড়কের দুই পাশের স্থাপনা ভাঙার সময় কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাই নিচ্ছে না প্রশাসন বা দোকানের মালিকরা। অথচ এসব স্থাপনা ভাঙার সময় শ্রমিক ও পৌর নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা উচিত ছিল। জেলা সিপিবির সভাপতি মিহির ঘোষ বলেন, দোকান মালিকরা নিজ উদ্যোগে দোকানঘর ভাঙলেও জেলা প্রশাসনের একটা দায়িত্ব আছে। কারণ ব্যস্ততম সড়কে কাজ হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ ও উচ্ছেদের কাজ করে থাকে। তাই ভাঙার কাজের সময় প্রশাসনের লোক ও পুলিশ দিয়ে তদারকি করা যেত। তাহলে হয়তো এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন বলেন, ইমারতের বিম চাপায় মৃত্যুর ঘটনার জন্য প্রশাসন দায়ী নয়। কারণ দোকানঘর মালিক নিজের উদ্যোগে দোকানঘর ভাঙার কাজ করছিলেন। এক্ষেত্রে দোকান মালিক ও শ্রমিকদেরই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা তা করেননি। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান চালালে সেখানে প্রশাসনের লোকজন ও পুলিশ থাকে। তাদের পাহারায় সতর্কতার সঙ্গে ভবন ভাঙা হয়।
সোমবার গাইবান্ধা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনার জন্য সওজ বিভাগ দায়ী নয়। কারণ আমরা দোকান মালিকদের সর্তকতার সঙ্গে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলেছি। শহরে কয়েক বার মাইকিং করেছি। দোকান মালিকরা নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন। তাদেরই সর্তক থাকা প্রয়োজন।’