শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি
মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়ির বকুলতলার পুকুরঘাটে রাখা নৌকাটি পানিতে তলিয়ে এখন আর পুরোপুরি দৃশ্যমান নেই। বর্তমানে পানিতে অর্ধনিমজ্জিত নৌকাটির অবকাঠামো দুর্বলসহ রং-রূপ বিবর্ণ হয়ে গেছে। ‘বজরার’ আদলে কাঠের তৈরি ভাসমান নৌকাটি কুঠিবাড়ি ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে ছিল এক বিশেষ আকর্ষণ। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শিলাইদহে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোহার পাত দিয়ে তৈরি বড় একটি নৌকায় পদ্মা নদী পরিভ্রমণ করতেন। নৌকাটিকে ‘বজরা’ নামেই ডাকা হতো। পদ্মার বুকে নৌকায় চড়ে গান কবিতাসহ অসংখ্য সাহিত্য রচনা করেন। কালক্রমে ঐ ‘বজরা’ নামক নৌকার অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে স্মৃতি হিসাবে ‘বজরার’ ভগ্নাংশ সংরক্ষিত রয়েছে কুঠিবাড়ির তিন তলার বারান্দায়। প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে কবির বিলুপ্ত ‘বজরা’ নৌকার আদলে ২০১১ সালে তৈরি করা হয় প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ লম্বা কাঠের একটি বড় নৌকা। ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে নৌকাটি কুঠিবাড়ির বকুলতলার পুকুরঘাটে ভাসানো হয়। অযত্ন ও সংস্কারের অভাবে জৌলুস হারিয়ে নৌকাটির এখন ভগ্নদশা। স্থানীয় উপজেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গোপা সরকার জানান, চিত্রা, চৈতালি, সোনার তরী ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নদী কেন্দ্রিক রচনার নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। সাহিত্য রচনাসহ কবিতা ও গানে পাওয়া যায় কবির নদী কেন্দ্রিক অনেক বিবরণ। আর পদ্মা নদী পরিভ্রমণ ও নদীর বহু দৃশ্য অবলোকনে কবি তার সাহিত্য চর্চা ও রচনায় লাভ করেন অনুপ্রেরণা। ‘বজরার’ আদলে তৈরি নৌকাটি খুবই তাত্পর্যপূর্ণ বলে তিনি জানান। কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মখলেছুর রহমান জানান, নৌকাটি সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনার আঞ্চলিক পরিচালকের দপ্তরের মাধ্যমে ডিজি অফিসে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নৌকাটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ সরকারি নির্দেশনা এখনো আসেনি বলে জানান তিনি।