গোপালপুরে তিন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ঝুঁকিপূর্ণ

ভারী যান পারাপারে নিষেধাজ্ঞা

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

আঞ্চলিক মহাসড়কে সংযুক্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু বিপজ্জনক ঘোষিত হওয়ায় টাঙ্গাইল ও জামালপুরের মধ্যে যানচলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। গোপালপুর উপজেলা প্রশাসন গত মঙ্গলবার এক প্রেস রিলিজে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের তিন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর এ তথ্য জানান। গোপালপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, গোপালপুর-ভূঞাপুর সড়কে বৈরাণ নদীর সূতি বলাটা সেতুর দুটি স্প্যানের চারটি গার্ডারে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। ব্রিজ সামান্য কাত হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় ভারী যান পারাপারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম আজম সেতুর কাহিল দশা পর্যবেক্ষণ এবং  নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দেন। শুকনা মৌসুমে এ ব্রিজের সংস্কার হবে বলে জানানো হয়। গোপালপুর পৌরসভার সূতি এলাকার কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মিত হয়। সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি। অপরদিকে গোপালপুর-হেমনগর সড়কের নবগ্রাম পুলিশ বক্সের সেতু যান চলাচলের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। এটি নির্মিত হয় আশির দশকে। এর একাংশ ভেঙে গেছে। বার কয়েক সংস্কার হলেও এখন এটি উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ। একইভাবে গোপালপুর-পিংনা ভায়া ঝাওয়াইল সড়কের ঝিনাই নদীর লোহার সেতু চলাচলের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানার সার পরিবহনে সওজের এ দুটি সড়কের গুরুত্ব অনেক। কিন্তু সেতু দুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সারসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধুপুর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হোসেন জানান, ঝাওয়াইলের লোহার ব্রিজ পরিদর্শন করে গেছেন সওজের প্রধান কার্যালয়ের এক দল ডিজাইনার। খুব তাড়াতাড়ি এর কাজ আগাচ্ছে। পোড়াবাড়ী পিংনা ভায়া গোপালপুর আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্ত হওয়ার কাজ চলছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এ দুটি সেতুর কাজও তাড়াতাড়ি হবে বলে তিনি আশাবাদী। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, এ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।