কাজী কাউছার, টঙ্গীবাড়ি (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা
পুলঘাটা ইটের পুলটি বিলুপ্ত প্রাচীন বিক্রমপুর মহানগরের সীমানা পরিখা মীরকাদিম খালের ওপর পানাম পুলঘাটা ও আব্দুল্লাপুর গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। সেতুটির নির্মাণকাল ও নির্মাতা সম্পর্কে জানা না গেলেও ধারণা করা হয় এটি নির্মিত হয়েছিল মোগল আমলে ১ হাজার ৭০০ শতকে রাজা বল্লাল সেনের সময়। সেতুটি তিন খিলান বিশিষ্ট ও এটি নির্মাণে চুন-সুরকি ব্যবহার করা হয়েছিল। মূল সেতু থেকে সাত কিলোমিটার দক্ষিণে টঙ্গিবাড়ী ও সাত কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে মুন্সীগঞ্জ শহর অবস্থিত। ধনুকাকৃতির পুলঘাটার ইটের পুলটি ৫২ দশমিক ৪২ মিটার দৈর্ঘ্য। বিভিন্ন সময় সেতুটি সংসড়ারের ফলে এর আদিরূপ অনেকটাই বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। নিচে এবং ওপরের আস্তর ও ইট ওঠে দিন দিন বিনষ্ট হচ্ছে।
সেতুটির কাঠামোর বিভিন্ন অংশ ইতিমধ্যে ভেঙে গেছে। ঈদ, পূজা ও পয়লা বৈশাখের মতো উত্সবের দিনে শত শত দর্শনার্থীর ভিড় জমে সেতুর ওপরে। বিনোদন প্রত্যাশী মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে প্রতিদিন। বিদেশিরাও আসেন মাঝেমধ্যে। অথচ ঐতিহ্যের স্মারক এ সেতুটি সংসড়ার ও সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তর ২০০৬ সালে মিরকাদিম খালের ওপর পানাম-পুলঘাট সেতুটি সংরক্ষণের আওতায় নেয়। সেতুটির সংস্কার করে এর দুই পাশে দুটি সতর্কীকরণ নোটিশ পুঁতে দেয়। ঐ নোটিশে সেতুর দেওয়ালে কোনো কিছু লেখাসহ অবকাঠামোর ক্ষতিসাধন করলে দণ্ডনীয় অপরাধের সতর্কবার্তা ছিল।
অতি সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ পাশের দেওয়ালের বড় একটি অংশ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া সেতুটির নিচের অংশের দুই পাশ দিয়েই চুন ও সুরকির আস্তর উঠে গেছে। সেতুর পাশেই দেওয়াল ঘেঁষে ইট-বালুর ব্যবসা চলছে। সেতুর পূর্ব পাশের দক্ষিণ দিকে ১০ গজের মধ্যেই স্থানীয় কয়েকটি নির্মাণাধীন দোকানঘর। পুলটি ঘেঁষে বালু ব্যবসায়ীরা তাদের ড্রেজারের পাইপ নিয়ে ব্যবসা করছেন। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই প্রত্নতত্ত্ব এ নিদর্শনটির করুণ হাল বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একাধিক অধ্যাপক। তারা বলেন, এসব সম্পদ যে অমূল্য তা স্থানীয় মানুষকে বোঝাতে হবে। এসব সম্পদ নিয়ে তাদের ভেতরে গর্ববোধ তৈরির দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক জানান, সেতুটি ২০০৬ সালে সংরক্ষণের পর সংসড়ার করা হয়। কিন্তু সেতুর নিচ দিয়ে ট্রলারসহ নৌযান যাওয়ার সময় সেতুতে আঘাত লাগায় দুই পাশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।