করোনাকালে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের অস্থিরতা সম্পর্কে যখন কাগজে পড়ি, তখন মন বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। শত চিন্তা মাথায় নিয়ে বাসা থেকে বের হই। যাত্রাপথে বিভিন্ন অপরিচিত মানুষের সংস্পর্শে আসছি। জানি না কখন কী হয়। তিনবার গাড়ি পরিবর্তন করে কর্মস্থলে পৌঁছি। গাড়িগুলোতে সচেতন মানুষের পাশাপাশি অসচেতন মানুষও কিছু দেখি। যাদের অনেককে মাস্ক বিহীন অবস্থায় দেখতে পাই। একবার এক অপরিচিত ভদ্রলোক আমাকে বললেন, ভাই মানুষকে একদিন মরতেই হবে। আমার কপালে যদি করোনার কারণে মৃত্যু লেখা থাকে, তবে কোনোকিছুই তা ঠেকাতে পারবে না। অতএব মাস্ক পরার দরকার নাই! গার্মেন্টস ছুটির পর চোখে পড়ে গাদাগাদি করে মেয়ে-কর্মীরা হেঁটে যাচ্ছে। যাদের একজনও মাস্ক পরেনি। মাঝেমধ্যে বাজারে যেতে হয়। চেষ্টা করি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লিখতে হচ্ছে—অন্য ক্রেতা আমাকে সরিয়ে কিভাবে বাজার করবেন সে প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। মুদির দোকানে যাই। সেখানেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ানো বেশ কষ্টকর অসচেতন ক্রেতার জন্য। রাস্তায় গাড়িগুলোতে স্যানিটাইজ ব্যবস্থা নাই। সিএনজি অথবা অটোরিকশায় প্রায়ই উঠি। কিছুদিন গাড়িগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে দেখা গেলেও এখন আর খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। কয়েকদিন আগে বিশেষ একটা কাজে পরিচিত একটা প্রতিষ্ঠানে গেলাম। কোটি কোটি টাকা লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানটির জীবাণুনাশক ব্যবস্থা খুবই দুর্বল দেখলাম। যে বাসায় ভাড়া থাকি সে বাসার গেইট থেকে বাসা পর্যন্ত আমি জীবাণুনাশক পানি স্প্রে করি যাতে সবাই নিরাপদ থাকেন। আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আরেকজনকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করতে হবে। করোনা ভাইরাস নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করলে সবারই মঙ্গল।
রূপম চক্রবর্ত্তী
পূর্ব নলুয়া, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম