কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন

১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীরাই কিশোর। এই বয়সের ছেলেমেয়েরা পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে  তেমন কোনো কাজকর্মের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় করোনার এই সময়ে এরা একেবারেই অলস সময় পার করছে। আর অলস মস্তিষ্ক হচ্ছে শয়তানের কারখানা। ফলে বর্তমান সময়ে কিশোর অপরাধ অনেক বেড়ে গেছে। কিশোর অপরাধ বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কিশোর ও যুব সমাজে খেলাধুলার ব্যবস্থা না থাকা, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অভাব, রাজনৈতিক সংগঠনের ভিড়ে সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠতে না পারা ইত্যাদি। স্মার্টফোন, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, উন্মুক্ত পর্ণগ্রাফি, বাবা-মায়ের আদর-আহ্লাদ-উদাসীনতা, মাদক গ্রহণ ও মাদক বেচাকেনায় কিশোরদের ব্যবহার, গ্রামে পাড়া-মহল্লায় অধিপত্য বিস্তার সর্বোপরি বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাদের অপরাধী করে তুলছে। এক শ্রেণির কিশোর মোটরবাইক নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এদের কারুরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এবং এরা  বেপরোয়াভাবে মোটরবাইক চালায়। এ কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে এবং মারাও যাচ্ছে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে খেলাধুলার ব্যবস্থা করা জরুরি, সমাজভিত্তিক সৃজনশীল ক্লাব-সংগঠন গড়ে তোলার সুযোগ করে দিতে হবে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ইতিবাচক মোটিভেশন এবং মনিটরিং।

কামরুজ্জামান

সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ,

মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, গাজীপুর