টাঙ্গাইলে ধর্ষণ মামলায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাই?লের ভূঞাপুরে দল বেঁধে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইল জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারিক হাকিম খালেদা ইয়াসমিন এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে দুই জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিন জন জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। প্রসঙ্গত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশ ২০২০ পাশ হওয়ার পর এই প্রথম কোনো ধর্ষণ মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন :জেলার মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামের বদন চন্দ্র মুনি ঋষির ছেলে সঞ্জিত (২৮), একই উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের শ্রী দিগেন চন্দ্র শীলের ছেলে গোপি চন্দ্র শীল (৩০), একই এলাকার সুনীল চন্দ্র শীলের ছেলে সাগর চন্দ্র শীল (৩৩), সুনীল মুনি ঋষির ছেলে সুজন মুনি ঋষি (২৮) ও মণিন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রাজন চন্দ্র (২৬)। এদের মধ্যে সাগর, সুজন ও রাজন পলাতক রয়েছেন।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নাছিমুল আকতার জানান, দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে সাগর চন্দ্র শীলের সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয় জেলার ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের ঐ মাদ্রাসাছাত্রীর। সেই সুবাদে ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি ঐ ছাত্রীকে সাগর কৌশলে একটি সিএনজিতে করে এলেঙ্গা নিয়ে যায়। সেখান থেকে মধুপুর উপজেলার চারালজানী গ্রামে তার বন্ধু রাজনের বাড়িতে ওঠে। সেখানে ছাত্রীকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু সাগর হিন্দু থাকায় বি?য়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মেয়েটি। এ কারণে ঐ রাতেই সাগর মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ১৭ জানুয়ারি রাতে তাকে মধুপুরের বংশাই নদীর তীরে নিয়ে দণ্ডিত পাঁচ জন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ফেলে যায়।

এই ঘটনায় ঐ ছাত্রী বাদী হয়ে ভুঞাপুর থানায় ১৮ জানুয়ারি দণ্ডিতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ সুজন মুনি ঋষিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। এরপর ১৯ জানুয়ারি সুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সে তার জবানবন্দিতে সাগর, রাজন, সঞ্জিত ও গো?পি চন্দ্র জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পুলিশ তদন্ত শেষে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা জানান, প্রেমসংক্রান্ত বিষয়ে বাদী (ঐ মাদ্রাসাছাত্রী) নিজেই তার বন্ধুদের সঙ্গে চলে গেছে। সরাসরি কোনো ধর্ষণের সাক্ষী নেই। তার পরও আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছেন। এতে আসামি পক্ষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আশা করি সেখানে ন্যায়বিচার পাব।

ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলার বরুড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শিক্ষিকাকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাশেদুল হাসান রাজিব নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. জাহিদুল কবির গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন। রাজিব উপজেলার কাকৈরতলা গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর কৌশলে ঐ শিক্ষিকাকে অপহরণ করে রাজিব। পরে ১৭ নভেম্বর ঐ শিক্ষিকাকে ঢাকার উত্তরা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শিক্ষিকার ভাই বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা  করলে পুলিশ রাশেদুল হাসান রাজিবের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন।