ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে ২২ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি করেছে সংগঠনটির একাংশ। নতুন সংগঠকদের ভাষ্য, নুর-রাশেদদের ‘আর্থিক অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা, সহযোদ্ধাদের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অবমূল্যায়ন করা এবং সম্প্রতি এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর করা ধর্ষণের মামলাকে নোংরা রাজনীতিকীকরণের অপচেষ্টার’ প্রতিবাদে কমিটিতে ‘সংস্কার’ করা হয়েছে।
সংগঠনের পুরোনো নাম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ ব্যানারে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন এ পি এম সুহেল, যিনি একসময় যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আর সদস্যসচিব হয়েছেন আগের কমিটির আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসমাইল সম্রাট। ১৪ জন যুগ্ম-আহ্বায়ক, তিন জন সদস্য, এক জন যুগ্ম-সচিব এবং দুই জন উপদেষ্টা নিয়ে ২২ সদস্যের এই কমিটি ‘আংশিক’ বলে জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
নতুন কমিটির এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল হক নুর বলেন, ‘যারা আজকে কমিটির ঘোষণা দিয়েছে, তারা ছাত্র অধিকার পরিষদের কেউ না। তাদের মধ্যে অনেককেই দেখলাম, যারা ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংগঠন নামে আরেকটি প্ল্যাটফরমের নেতৃত্বে আছেন। এই কমিটির আহ্বায়ক, যার নাম দেখলাম সুহেল, তাকে সংগঠনবিরোধী কাজ করার দায়ে গত মে মাসে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন যে কেউ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মী হিসেবে দাবি করতেই পারে। দাবি করলেই তা হয়ে যায় না। কোথা থেকে তারা এসেছে তা আমরা বিবেচনাও করছি না।’ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক ব্যবস্থায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার থেকে এ ধরনের কার্যকলাপ করাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন নুর।
নতুন কমিটির সদস্যসচিব ইসমাইল সম্রাট সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’; যার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল রাজনীতিমুক্ত সামাজিক সংগঠন হিসেবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের তৃতীয় বার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে অনেকের ‘বিরোধিতার’ মধ্যেও সংগঠনের নাম সংক্ষিপ্ত করা হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাড়াহুড়ো করে রাজনীতি করার অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও প্রবাসী অধিকার পরিষদ নামে তিনটি অঙ্গসংগঠন তৈরি করা হয়।
ইসমাইল বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের অঙ্গ সংগঠন করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এখন পর্যন্ত অজানা আমাদের কাছে। এর ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে চাপা ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়। এর বিরোধিতা করে সংগঠনের তৃণমূল থেকে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কিন্তু নুরের একক সিদ্ধান্তে রাজনীতি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা একপ্রকার স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং সেই সঙ্গে চরম বিরোধ সৃষ্টি করে সংগঠনের অভ্যন্তরে। তিনি বলেন, “সংগঠনের স্বার্থে এবং ‘তাদের শোধরানোর’ সুযোগসহ নানা বিষয় চিন্তা করে তারা এতদিন চুপ ছিলেন। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় সবকিছু বিবেচনা করে নুর-রাশেদদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আমাদের আগের নাম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চলমান সব অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে একটি বৈষম্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে এবং সারা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলাম।’