অগ্রণী ব্যাংকের সফটওয়্যার আপগ্রেডেশন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হতে চলেছে। এ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ গতকাল বৃহস্পতিবার খারিজ হয়েছে উচ্চ আদালতে। এদিকে, সৃষ্ট ঘটনাটি এবং পুরো প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন এক জন আইনজীবী।
জানা গেছে, কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেডেশন না হওয়ায় ব্যাংকিং ঝুঁকিতে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। আপগ্রেডেশনের নামে ব্যাংক কর্মকর্তার সই জাল করে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি টেমিনসের স্থানীয় প্রতিনিধি ফ্লোরা টেলিকমের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে অগ্রণী ব্যাংক। ফ্লোরা টেলিকম বিষয়টি নিয়ে আদালতে গেলে নতুন কারো সঙ্গে চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তীতে কয়েকদফা শুনানির পর গতকাল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় আদালত। ফলে, অগ্রণী ব্যাংক কিংবা টেমিনসের অন্য কোনো স্থানীয় প্রতিনিধির সঙ্গে চুক্তি করতে বাধা থাকল না।
এদিকে, ফ্লোরা টেলিকমের জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করতে দুদকে আবেদন করেছেন আইনজীবী হাসান আব্দুল কাইউম। টেমিনসের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসাবে অগ্রণী ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থ টেমিনসকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে না কি হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে তা তদন্ত করার আবেদন জানান তিনি। দুদক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে অ্যাডভোকেট হাসান আব্দুল কাইউম আরো অভিযোগ করেন যে, অগ্রণী ব্যাংককে চাপে ফেলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অসত্ পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এটি করতে পারলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির বিশাল আর্থিক ক্ষতি হতো। এছাড়াও সুকৌশলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অগোচরে আনুপাতিক হারে হিসাব না করে সমুদয় লাইসেন্স ২০১৮ সালে নবায়নের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। যার সত্যতা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নথি অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যাবে।
এদিকে, ব্যাংক কর্মকর্তার সই জাল করায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন রয়েছে।