‘ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড ভুক্তভোগীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে’

ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড ভুক্তভোগীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে বলে মনে করে ‘প্রজন্মান্তরে নারীবাদী মৈত্রী।’ তাই তারা মৃত্যুদণ্ডের সাজা সমর্থন করে না, কারণ ধর্ষণ প্রতিরোধের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই, এটা কেবল তাত্ক্ষণিক জনরোষ মেটাতে ভূমিকা রাখে মাত্র। গবেষণায়ও দেখা গেছে মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে অপরাধ হ্রাসের কোনোই সম্পর্ক নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারীপক্ষ সভাকক্ষে ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে ক্রোধ : রক্ষা নয় মুক্তি চাই’ শীর্ষক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার প্রতিবাদে ‘প্রজন্মান্তরে নারীবাদী মৈত্রী’—এর ১০ দাবি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিষয়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণাসহ ১০টি দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—সব ধরনের লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অবসান, সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সংশোধন করা, যৌন সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীকে দায়ী করা চলবে না,  ধর্ষক কোনোভাবেই যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও পরিবারে আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায়,  পাঠ্যক্রমে যৌনশিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে, দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণের বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইন সংস্কার করা ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকারকর্মী শিরীন হক, অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার, সামিয়া আফরিন, পদ্মনী চাকমা, উপমা জিল্লুর, নাজমা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই করা আন্তঃপ্রজন্ম নারীবাদী মানুষদের নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘প্রজন্মান্তরে নারীবাদী মৈত্রী’ প্ল্যাটফরম। এ মৈত্রীর উদ্দেশ্য হলো—সমাজের গভীরে প্রোথিত এই সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সব প্রজন্মকে আহ্বান জানানো।