পোষা পাখিতে জ্যোতির নতুন জীবন

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

 

জ্যোতির গর্ভে তখন প্রথম সন্তান। কি যে উচ্ছ্বাস। ক’দিন পরই প্রসব। ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী ঘর সাজালেন। নতুন অতিথি আসছে। আয়োজন তো কিছু করতেই হয়। হঠাত্ একদিন জ্যোতি অসুস্থ হয়ে পড়লো। সন্তান পেটের মধ্যে মারা গেলো। জ্যোতির পৃথিবী আঁধারে ভরে গেলো। কোনো কিছুই তার ভালো লাগে না। রাজ্যের বিষণ্নতা তার চোখে-মুখে। স্বামী কত কিছুই না করে। তারপরও জ্যোতির আচরণে আগের চঞ্চলতা আসে না। সন্তান হারানোর আঘাত রীতিমত কুরে কুরে খায় জ্যোতিকে। সারাক্ষণ মন খারাপ করে বসে থাকে। সবাই ভাবলো, জ্যোতি আর আগের মত হবে না। জ্যোতির ভাসুরের পোষা পাখির সাথে সম্পৃক্ততা ছিলো। তিনি এক পেয়ার পাখি জ্যোতিকে গিফট করলেন। ফুটফুটে সুন্দর পাখি। নাম তার বাজরিগার। খাঁচার পাখি। কিচিরমিচির করে ডাকাডাকি করে। একে অপরকে খাইয়ে দেয়। জ্যোতির ভালোই লাগে। বিষণ্ন মনে একটু আনন্দ দোল খায়। তিনি বাজরিগার পাখির যত্নআত্তি শুরু করেন। সময় মত খাবার দেয়া, নরম খাবার তৈরি করা, খাঁচা পরিষ্কার করা। আরও কত কাজ। তার সময় ভালোই কাটতে লাগলো। এরপরের গল্পটা শুধুই সফলতার। আর দশটা মেয়ে যা পারেনি, জ্যোতি তা পেরেছে। পোষা পাখির জগতে জ্যোতি এখন সুপরিচিত নাম। ঘরে সংকুলান হয়নি। শ্বশুরকে বললেন, ছাদে রুম করার কথা। শ্বশুর ছাদে পাখির রুম করে দিয়েছেন। বাজরিগার, সিলভার জাভা, লুটিনো ককাটেল, লাভবার্ডসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক পাখি তার এভিয়ারিতে। তিনি এভিয়ারির নাম দিয়েছেন আয়মান এভিয়ারি। জ্যোতির টেম (পোষ মানানো) পাখি আছে। তার নাম টুকি। টুকি নিজের নাম বলতে পারে। খাঁচার বাইরে সে ঘুরে বেড়ায়। হাতে বসে খুনসুটি করে। শুধু পাখি পালন নয়, একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন জ্যোতি হাসান। স্কুল-সংসার সব এক হাতে সামলান। তিনি মনে করেন, গৃহবধূরা পোষা পাখি পালন করতে পারে। অবসর সময় ভালো কাটবে। উপরন্তু কিছু অর্থ আয়ও হবে। স্টুডেন্টরাও পোষা পাখি পালন করে পকেট খরচ যোগাড় করতে পারে। জ্যোতির মতে, পোষা পাখি মন ভালো রাখে। তার জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া এনেছে খাঁচার পোষা পাখি। মাদক নির্মূল, গ্যাজেট আসক্তি কমাতে পারে খাঁচার এইসব রঙ-বেরঙের পোষা পাখি।