খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তন বিবেচনায় না নিলে জাতীয় ও অর্থনৈতিক জীবনে ঝুঁকির সৃষ্টি হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) আয়োজিত ‘পুষ্টিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ বিষয়ক সেমিনারে এই কথা বলা হয়।
সেমিনারে Climate Change & Its Impact on Nutrition শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড-এর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেকনিক্যাল এডভাইসরি প্যানেল এর সদস্য ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারটান-এর অবকাঠামো নির্মাণ ও কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্প পরিচালক এস এম শিবলী নজির (যুগ্ম সচিব), বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারটান পরিচালক কাজী আবুল কালাম (যুগ্ম সচিব)। সেমিনারে পুষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট সরকারি/বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভৌগলিক সংবেদনশীলতার তথ্য তুলে ধরেন ড. আহসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উপর দিয়ে পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার মোট বৃষ্টিপাতের ৮০ শতাংশ প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌছায়, অথচ এই অববাহিকার মাত্র ৭ শতাংশ স্থলভাগ বাংলাদেশ ভূখণ্ডে। এছাড়া উত্তর ভারত মহাসাগর তথা বঙ্গোপসাগরে পৃথিবীর মোট ঘূর্ণিঝড়ের ০৩ শতাংশ উৎপন্ন হয় যার অনেকগুলো বিধ্বংসী আকার নিয়ে ওলটানো ফানেল আকৃতির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে আছড়ে পড়ে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকির কারণে এই ঝুঁকির পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি যোগ করেন, বর্তমান হারে জলবায়ু পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে বরিশাল অঞ্চলের ৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তৃতি ঘটবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে (সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুণা) লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাবে যার ফলে মাত্র ১২ শতাংশ এলাকায় আমন চাষ করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে দেরীতে বন্যার (Late Flood) কারণে আমনের উৎপাদন ১১ শতাংশ কম হয়েছিল যার ফলে দেশজুড়ে চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছিল। এছাড়া বন্যা, জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য শস্য সংগ্রহ থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত ধাপগুলোতে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, বাদাম ও ভূট্টা সংগ্রহের পরে গুদাম বন্যা বা জলোচ্ছ্বাস আক্রান্ত হলে সেখানে আর্দ্রতার সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে ভুট্টা ও বাদামের খোসার ভেতর ছত্রাক রূপে আলফাটক্সিনের সৃষ্টি হয় যা ক্যান্সারের জন্য দায়ী।
খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য ড. আহসান জলবায়ু সহিষ্ণু খাদ্যশস্য উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের উপর গুরত্বারোপ করেন। এছাড়া কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সময় পুরো দেশের জন্য একক পরিকল্পনা গ্রহণ না করে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। সেমিনার শেষে উপস্থাপিত প্রবন্ধের উপর প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে বারটান পরিচালক কাজী আবুল কালাম (যুগ্ম সচিব) বলেন, বারটান আইন ২০১২ অনুযায়ী পুষ্টি অবস্থার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণ, গবেষণা এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান এর ম্যান্ডেট বারটান-কে দেয়া হয়েছে। এই সেমিনার থেকে বারটান জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ভবিষ্যত কার্যক্রম প্রণয়নের দিকনির্দেশনা পাবে বলে আশা প্রকাশ করছি।