এসএসসি- ২০২১ ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মা সধবা হলেও উদ্দীপকের কুসুম বিধবা

বাংলা প্রথমপত্র:সৃজনশীল

 

অভাগীর স্বর্গ

 

১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

‘কুসুম বিধবা হইয়াছে। শুনিলাম, তাহার স্বামী বিদেশে চাকরি করিত; দুই-একদিন ছাড়া স্বামীর সহিত সাক্ষাতই হয় নাই। পত্রযোগে বৈধব্যের সংবাদ পাইয়া, আট বত্সর বয়সে মাথার সিঁদুর মুছিয়া, গায়ের গহনা ফেলিয়া, আবার তাহার দেশে সেই গঙ্গার ধারে ফিরিয়া আসিয়াছে।’                                                             

ঘ. ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মায়ের বিদায় পাওয়ার অভিপ্রায় কুসুমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।                 ৪

ঘ. না, ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মায়ের বিদায় পাওয়ার অভিপ্রায় উদ্দীপকের বিধবা কুসুমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মা মৃত্যুশয্যায় স্বামীর পায়ের ধুলা এবং সধবার চিহ্ন নিয়ে শেষযাত্রা করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিল। কাঙালীর মায়ের তথা অভাগীর স্বামী জীবিত থাকায় তার এরূপ আশা করা যৌক্তিক। কিন্তু কাঙালীর মায়ের এমন ইচ্ছা উদ্দীপকের বিধবা কুসুমের ক্ষেত্রে খাটবে না। কেননা, তারা বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। উদ্দীপকের কুসুম বিধবা। উদ্দীপকের প্রেক্ষিতে জানা যায়, বিদেশে চাকরিরত স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পত্রযোগে জানতে পেরেছে কুসুম। এরপরই আট বছর বয়সী কুসুম সিঁদুর মুছে, গহনা ফেলে বিধবার বেশ ধারণ করেছে। কিন্তু ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের অভাগীর ক্ষেত্রে তা হয়নি। তার স্বামী তাকে ছেড়ে অন্যত্র সংসার বাঁধলেও সে জীবিত থাকায় কাঙালীর মা সধবা। তাই মৃত্যুশয্যায় সে তার শেষ ইচ্ছা ব্যক্ত করে পুত্র কাঙালীর কাছে। শেষযাত্রায় সে তার স্বামীর আশীর্বাদ নিতে চায় এবং সধবার চিহ্নস্বরূপ আলতা এবং সিঁদুর নিয়ে স্বর্গগামী হওয়ার বাসনা জানায়। সধবা হওয়ায় কাঙালীর মা এমন ইচ্ছা পোষণ করতে পারলেও উদ্দীপকের কুসুমের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। কেননা, ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কাঙালীর মা সধবা হলেও উদ্দীপকের কুসুম বিধবা। সে আর মৃত স্বামীকে ফেরত পাবে না এবং পুনরায় সধবার পরিচ্ছদও পরিগ্রহ করতে পারবে না। উদ্দীপকের কুসুমের অবস্থান ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের অভাগীর একদম বিপরীতে। অভাগীর অভিপ্রায় তাই কুসুমের ক্ষেত্রে খাটবে না। অতএব, সার্বিক দিক বিবেচনা শেষে বলা যায় যে, ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের সধবা কাঙালীর মায়ের শেষ বিদায় পাওয়ার অভিপ্রায় ছিল স্বামীর আশীর্বাদপ্রাপ্তি।

স্বামী জীবিত ছিল বলেই অভাগী এমনটা প্রত্যাশা করতে পেরেছে যা উদ্দীপকের বিধবা কুসুমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।