অনেক দিন আগে আকাশের ওপারে ওয়ারাউ বলে এক মানব জাতি বাস করত। তাদের দেশ ছাড়া পৃথিবী বলে যে আরেকটি বাসভূমি আছে তা তারা জানত না।
ওয়ারাউদের দেশে কোনো পশু ছিল না। ছিল অনেক পাখি। পাখি শিকার করেই তারা জীবন ধারণ করত। পাখির পালক দিয়ে তারা সুন্দর সুন্দর পোশাক বানাত।
সে দেশে ওকোনোরোতে নামে এক যুবক শিকারী ছিল। শিকারী হিসেবে বেশ নামডাক ছিল তার। একদিন ওকোনোরোতে বনের গভীরে শিকার করতে গিয়ে একটি অদ্ভুত সুন্দর পাখি দেখতে পেল। এত সুন্দর পাখি সে জীবনে কখনো দেখেনি। পাখিটাকে ধরার জন্য তীর-ধনুক নিয়ে তার পিছু ছুটতে লাগল। প্রতিজ্ঞা করল, এ পাখি শিকার না করে সে ঘরে ফিরবে না।
খাল-বিল, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, ঝোপ-জঙ্গল পেরিয়ে পাখি উড়তে লাগল। ওকোনোরোতে পাখির পিছনে ছুটছে তো ছুটছেই। অবশেষে তীরবিদ্ধ হয়ে পাখি লুটিয়ে পড়ল। ওকোনোরোতে পাখিটি কুড়িয়ে নেবার জন্য এগিয়ে এলে সে সেখানে একটি বড় গর্ত দেখতে পেল। কিন্তু পাখিটিকে পেল না। সে গর্তের মুখ দিয়ে দেখে, নিচে অনেক নিচে কী সুন্দর একটি সবুজ দেশ। সবুজ মাঠে গরু, ছাগল, ঘোড়া, হরিণ চরে বেড়াচ্ছে। ওকোনোরোতে এর আগে কখনো পশু দেখেনি।
ওকোনোরোতে বাড়ি ফিরে এসে সবাইকে নতুন দেশের কথা বলল। একদিন সে তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে সেই গর্তের কাছে এলো। সবাই গর্তের মুখ দিয়ে একটা নতুন দেশ দেখতে পেল। অনেক নিচে গাছপালা, নদী-নালা, সবুজ মাঠ। মাঠে নানান ধরনের পশু চরে বেড়াচ্ছে। সবাই ভাবল, এই নতুন দেশে যেতে পারলে পেটপুরে পশুদের মাংস খাওয়া যাবে। কিন্তু অত নিচে তারা নামবে কেমন করে?
সবাই ঠিক করল, কাপড় দিয়ে খুব বড় মই বানাতে হবে। মই বেয়ে একজন একজন করে নিচে নামবে। অনেক বড় দড়ি আর কাপড় দিয়ে মেয়েরা সাত দিন সাত রাত ধরে মই বানাল। ওকোনোরোতে বলল, সবার নামার দরকার নেই। আগে আমি নামব। যদি ফিরতে না পারি তাহলে কেবল একটি জীবন নষ্ট হবে। বেশি লোক ক্ষয় করে লাভ নেই।
মই বেয়ে খুব আস্তে ওকোনোরোতে নিচে নামল। অনেকক্ষণ এদিক ওদিক তাকাল, ঘোরাঘুরি করল। কোনো পশুপাখি তাকে দেখে ভয় পায় না। সে একটি হরিণ মেরে তার মাংস খেল। বাকি মাংস কাপড়ে বেঁধে দড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলো।
হরিণের মাংস খেয়ে সবাই খুব তারিফ করল। তারপর একদিন সবাই মই বেয়ে একজন একজন করে নিচে নামতে শুরু করল। এমনিভাবে আকাশের ওপার থেকে ওয়ারাউ মানুষেরা নতুন দেশে এসে শুরু করল বসতি স্থাপন। এই নতুন দেশটিই হলো আমাদের আজকের পৃথিবী।
রূপান্তর :শাহজাহান কিবরিয়া
অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য