সবজি

লালশাক

একটুখানি শাক মিশিয়ে ভাত মাখালে কী সুন্দর টকটকে লাল হয়ে যায় ভাতগুলো। এ শাক দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি খেতেও সুস্বাদু। এ শাকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ (ক্যারোটিন), বি, সি এবং ক্যালসিয়াম ও আয়রন ছাড়াও রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও ফাইবার বা আঁশ। ভিটামিন ও বিভিন্ন পুষ্টির ভালো উত্স হওয়ায় লালশাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

লালশাকের উত্পত্তি দক্ষিণ আমেরিকা, বিশেষ করে মেক্সিকো। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, চীন, তাইওয়ান, আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, সেনেগাল, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে লালশাক চাষ হয়।

লালশাকের গাছ ছোট বর্ষজীবী গুল্ম প্রকৃতির। কাণ্ড ফাঁপা। পাতা ডাঁটাশাকের পাতার চেয়ে ছোট ও নরম। লালশাকে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায় এটি দেহের হজম ও পরিপাক প্রক্রিয়ার কাজে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। ফলে হূদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক ও হূদপিণ্ডকে শক্তিশালী করতেও লালশাকের ভূমিকা রয়েছে। চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত লালশাক খেলে কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি রক্তে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আমাদের দেহের সুস্থতা বজায় রাখতে লালশাকের গুরুত্ব অপরিসীম।