>> মেহেদী হাসান গালিব
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ব্রেক দ্য সার্কেল’-এর ৮ম পর্ব। ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি’ কর্তৃক আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে জমা হয় বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া থেকে বিভিন্ন আলোকচিত্রীর মোট ৪৫২৮টি ছবি। এত ছবির মধ্য থেকে সিঙ্গেল ক্যাটাগরিতে সেরা ৭৭টি ছবি এবং ফটো স্টোরি ক্যাটাগরিতে সেরা ৯টি ছবি নির্বাচিত করা হয় প্রদর্শনীর জন্য। ফটো স্টোরি ক্যাটাগরিতে বাছাইকৃত ৯টি সিরিজের তালিকায় স্থান পায় সাব্বির আহাম্মদের দুটি সিরিজ। এবং বিচার প্রক্রিয়া শেষে প্রথম স্থান অর্জন করে নেয় তারই একটি সিরিজ ‘আন্ডার দ্য ড্রপস’।
এর গল্পটি একটু পিছন থেকে শুরু করা যাক। সময়টা ২০১৭ সাল। সাব্বির তখন পাঠশালার ফার্স্ট সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। একদিন পাঠশালা থেকে সূর্যের আলোয় ক্যামেরার ফ্লাশ ব্যবহার করে ছবি তোলার অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হলো। ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়লেন সাব্বির। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ালো বৃষ্টি। খানিকক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর কয়েকটা ছবি তুললেন তিনি। ক্যামেরার স্ক্রিনে ছবিগুলো এক নজর দেখার পর আবিষ্কার করলেন এই বৃষ্টির মধ্যেও চমত্কার কিছু ছবি পাওয়া সম্ভব। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পহেলা বৈশাখের বৃষ্টিস্নাত বিকেলে ছাতা আর ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়েন সাব্বির। ছবি তোলেন বৃষ্টির ফোঁটায় ঢেকে যাওয়া এক নিঃসঙ্গ পৃথিবীর। এরপর প্রায় দুই-তিন মাস এই সিরিজের ছবি তুলে যান সাব্বির, যা পরবর্তীতে ‘আন্ডার দ্য ড্রপস’ নামে স্থান পায় ব্রেক দ্য সার্কেলে এবং তার সাফল্যের ঝুলিতে এনে দেয় প্রথম স্থান অধিকারীর মর্যাদা।
তবে ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে এটিই সাব্বিরের প্রথম অর্জন নয়। এর আগেও তিনি সাফল্যের ঝুলিতে যুক্ত করেছেন বিভিন্ন অর্জন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভয়েস অব ভিজ্যুয়ালসে অনারেবল মেনশন, গ্লোবাল পিস অ্যান্ড হারমনি উইকে প্রথম রানার-আপ এবং একটিভিজম ফেয়ারে বিজয়ীর গৌরব।
সাব্বিরের ছবি তোলা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে। তখন তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হাতে ছিল অঢেল সময়। তাই একটুখানি অবসর মিললেই ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়তেন ভালো ছবির সন্ধানে। তবে পরিবার থেকে ছিল আপত্তি। বাবা-মা মনে করতেন এসব ছবি তোলা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু সাব্বির তার সফলতা ও অর্জনের মধ্য দিয়ে তাদের ভুল প্রমাণিত করেছেন। এখন বাবা-মাও সাব্বিরকে ছবি তোলায় অনুপ্রেরণা জোগান। এ ছাড়াও ছবি তোলার ক্ষেত্রে সাব্বিরের জীবনে অনুপ্রেরণার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে বন্ধু রনি, আদনান, ইশতিয়াক, বিদ্যুত্, ইতমাম, বড় ভাই জুনায়েদ ও শিক্ষক ফরহাদ রহমান। বর্তমানে সাব্বির কর্মরত আছেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে। এখন আর আগের মতো অবসর না মিললেও ছবি তোলা বন্ধ হয়নি তার। তাই তো হাজার ব্যস্ততার মাঝেও ক্যামেরা হাতে তিনি বেরিয়ে পড়েন প্রকৃতির মাঝে, খুঁজতে থাকেন মনের মতো ছবি।