সবই হইবে, শুধু ধৈর্যের প্রয়োজন

দেশে নূতন এক বাস্তবতার নাম ই-কমার্স। পূর্বে ইহা সম্পর্কে বিশেষ কোনো ধারণা ছিল না। কেহ কল্পনাও করিতে পারে নাই যে, ঘরে বসিয়া মোবাইল ফোনের বাটনে চাপ দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দরজার সামনে পৌঁছাইয়া যাইবে পণ্য। আর সেই পণ্যেরও এখন কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাপার নাই। হাটের গরু হইতে শুরু করিয়া সেলাই সুচ, চাউল, তরকারি মায় কম্পিউটার অথবা মেশিনারিজ পৌঁছাইয়া যাইবে নির্দিষ্ট স্থানে। ইহা দ্রুত গ্রাস করিয়া লইতেছে আমাদের বাজারব্যবস্থার বড় একটি অংশ। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হইয়াছে। বর্তমানে ঢাকায় ই-কমার্সভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মী নিয়োজিত রহিয়াছেন। সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করিতেছেন, ইতিমধ্যেই কর্মসংস্থান হইয়াছে ২ লক্ষাধিক মানুষের। প্রযুক্তির এই যুগে বৈশ্বিক এই ব্যবসা পূর্বে বাংলাদেশে হাঁটিহাঁটি পা পা করিয়া প্রবেশ করিলেও করোনাকালে ইহার দৌড় গতি পাইয়াছে। তবে শুরুতেই কিছু অনিয়ম, অসংগতির সংবাদ প্রায়ই গোচরীভূত হইতেছে। তাহার উপর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিয়ন্ত্রণের কোনো নীতিমালা এখনো না থাকিবার ফলে একধরনের ঝুঁকির মধ্যে রহিয়াছে গ্রাহকরা। ক্ষেত্রবিশেষ আস্থা ও বিশ্বাসেও ফাটল ধরিতেছে। 

নিশ্চয়ই এই বিষয়ে অতি শীঘ্রই সরকার নীতিমালা তৈরি করিবে। কারণ সরকারের একটি বড় কাজ হইল, বাস্তবতার নিরিখে আইন, নীতিমালা তৈরি করিয়া তাহা প্রয়োগ করা। ইতিমধ্যে সরকার নীতিমালাসংক্রান্ত খসড়াও তৈরি করিয়াছে। আবার ইহাও মনে রাখিতে হইবে যে, কোনো কঠোর নীতিমালা তৈরির জন্য চাপ প্রয়োগ করিলে এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে। ই-কমার্স যখন প্রথম চীন দেশে শুরু হইয়াছিল তখন সেইখানেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়াছে, ভারতেও তাহাই হইয়াছিল। এখন এই দেশসমূহ ই-কমার্স বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন প্রদান করিয়াছে, আইন তৈরি করিয়াছে। ফলে এই খাতে শৃঙ্খলা তৈরি হইয়াছে। অতএব ধৈর্য ধরিতে হইবে।   

করোনাকালীন বাস্তবতা দূরে ঠেলিয়া রাখিলে আমরা বলিতে পারি, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি সন্ধিক্ষণ চলিতেছে। মানুষ অর্থের মুখ দেখিতে শুরু করিয়াছে। এখন পুঁঁজি গঠিত হইবার সময়ও। যেই কারণে একটি শ্রেণির জন্য ইহা অর্থ আয়ের সময়ও বটে। অবকাঠামোর কথাও যদি বলা হয় তাহাও কম দূর অগ্রসর হয় নাই। দেশের ৪৯ বত্সরের জীবন যথেষ্ট স্বাস্থ্যবান হইয়া উঠিয়াছে। যেই এলাকায় একসময় কুঁড়েঘর ছাড়া আর কিছু ছিল না, সেই স্থানে এখন চারতলা-ছয়তলা বাড়ির সারি উঠিয়াছে। যেই স্থান দিয়া হাঁটিয়া যাইবারও পথ ছিল না সেই স্থানে চওড়া সড়ক নির্মিত হইয়াছে। দেশব্যাপী জালের মতো বিছাইয়া পড়িতেছে সড়ক। সুতরাং অস্থির হইলে চলিবে না। আমাদের ধর্মগ্রন্থগুলিও বারংবার ধৈর্য ধরিতে বলিয়াছে।

সেই সঙ্গে ইহাও মনে রাখিতে হইবে যে, কেবল ই-কমার্স ব্যবসার জন্যই নহে, জনগণকেও সর্বক্ষেত্রেই সচেতন হইয়া উঠিতে হইবে। তাহা হইলেই দেশের অগ্রযাত্রা মজবুত হইয়া উঠিবে। বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলাইয়া সামনের দিকে অগ্রসরের ক্ষেত্রে বিশাল জনগোষ্ঠী যদি অসচেতন থাকিয়া যায়, তাহা হইলে পথ চলার গতি বিঘ্নিত হইতে বাধ্য।