দ্রুত গতিতে করোনা বাড়ছে ইউরোপে

বিশ্বে নতুন করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে শনাক্তের সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত এক মাসের কম সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মার্কিনি। গতকাল শুক্রবার (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজারেরও বেশি লোকের। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার এক দিনে প্রায় ৬০ হাজার নতুন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা গত ১৪ অগাস্টের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও দ্রুত গতিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে ইউরোপের কয়েকটি দেশে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এবং জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য-উপাত্ত সে কথাই বলছে। গত ৬ থেকে ১৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে যে হারে সংক্রমণ বেড়েছে তার চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি হারে সংক্রমণ বেড়েছে ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি দেশে। ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে মোট জনসংখ্যা ৩৪ কোটি ৩০ লাখ আর এক যুক্তরাষ্ট্রেই জনসংখ্যা ৩৩ কোটি ১০ লাখ। ইউরোপে এখন কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় প্রবাহ চলছে। ফলে মহাদেশটিতে দ্রুত হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। যদিও বৃহস্পতিবার ডাব্লিউএইচওর ইউরোপিয়ান বিভাগের পরিচালক ডা. হানস ক্লুগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনার প্রথম দফা সংক্রমণের চেয়ে এবার মৃত্যুর হার পাঁচ গুণ কম। 

ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশে গত কিছু দিন ধরে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কোয়ারেন্টাইন, সামাজিক দূরত্ব মানার মতো বিষয়গুলোতে আবারও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

শনিবার থেকে প্যারিসসহ ফ্রান্সের ৯টি শহরে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে। কারফিউ কার্যকরে ১২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দৈনিক নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ৩ হাজারে নামিয়ে আনতে চান। ইতালির দক্ষিণ কামপানিয়া অঞ্চলে এবং নেপলস শহরে সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রে স্কুল ও বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।