সাতক্ষীরায় চার খুনের নেপথ্যে মাদক!

স্থানীয় এক মাদক কারবারির সঙ্গে বিরোধের জের ধরে কলারোয়ায় একই পরিবারের চার জনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা নিহত শাহিনের ছোট ভাই রায়হানুর রহমানকে (৩৫) গ্রেফতার দেখিয়েছে সিআইডি। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিআইডি ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, আদালতে রায়হানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হলে আদালত আগামীকাল রবিবার শুনানির দিন ধার্য করেছে।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার খলসী গ্রামে মাছ ব্যবসায়ী শাহিনূর রহমান শাহিন, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে মাহি ও কন্যা তাসনিমকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তবে প্রাণে বেঁচে যায়  তাদের চার মাস বয়সি কন্যা মারিয়া। রাতেই নিহত শাহিনূরের শাশুড়ি ময়না খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৮/১০ জনকে আসামি করে কলারোয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে। এদিকে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে রাতেই পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে রাত ১টার দিকে স্থানীয় হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

এলাকাবাসী জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সপরিবারে জীবন দিতে হলো শাহিনকে। ব্রজবাকসা, খলসী ও হেলাতলা এলাকায় মাছের ব্যবসার আড়ালে ফেনসিডিল ও ইয়াবা পাচার করে আসছিল একটি মাদক চক্র। গত ৮ সেপ্টেম্বর নিহত শাহিনের বাড়ির প্রায় ২০ গজ দূরে ফেনসিডিলের একটি বড় চালান (৮৫০ বোতল) আটক করে কলারোয়া থানা পুলিশ। তবে পরদিন জিডিতে অন্য স্থানে (উপজেলার চিতলা এলাকায়) মাত্র ৪৯ বোতল ফেনসিডিল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার দেখিয়ে থানায় জমা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ফেনসিডিলের একটি বড় অংশ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। তত্কালীন ওসি মুনীর উল গিয়াস তদন্ত করে ফেনসিডিল আত্মসাতের সত্যতা পান এবং তিন সহকর্মীর বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন অফিসারকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। পরে পুলিশ থানার সোর্স সামাদকে আসামি দেখিয়ে বাকি ফেনসিডিলসহ চালান দেয়। ঐ মামলায় নিহত শাহিনের ভাই রায়হানকে চার্জশিটের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে হুমকি দেয় সামাদের সহযোগী থানার অপর সোর্স আব্দুল মালেক। এ নিয়ে মালেকের সঙ্গে শাহিনের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

নিহত শাহিনের মা শহিদা বেগম জানান, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক তার ছোট ছেলে রায়হানকে মাদকের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করতে চায়। এ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের সঙ্গে বড় ছেলে শাহিনের বিরোধ শুরু হয়। সে সময় মালেক শাহিনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলে শাহিনও তার মাদক ব্যবসা বন্ধ করে দিবে বলে পালটা হুমকি দেয়। এ নিয়ে শত্রুতা আরো বেড়ে যায়। অন্যদিকে প্রতিবেশি ওয়াজেদ কারিগরের ছেলে আকবরের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে আসছে। মাদক ব্যবসা কিংবা জমির বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

খলসী গ্রামের আব্দুর সাত্তার জানান, মালেক ও রায়হান দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের কারণে এলাকার উঠতি বয়সি ছেলেমেয়েরা মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে নানা ধরনের অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়ছে।

হেলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, মাদককে কেন্দ্র করে শাহিনের সঙ্গে মালেকের কথা কাটাকাটি হয় এবং প্রতিবেশি আকবরের সঙ্গে দীর্ঘদিন জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ সব কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়েছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসবে।