গজারিয়ায় হাইওয়ে থানা ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

গজারিয়ায় হাইওয়ে থানা ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাউদ্দিন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ধীর গতিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তিনতলা ভবন নির্মাণের জন্য পাঁচটি কোম্পানির রড নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তার বাইরের একটি কোম্পানির রডসহ নিম্নমানের পাথর, ইট, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করছে। ভবনটি নির্মাণের আগে ল্যাব টেস্টে যেসব রড, সিমেন্ট, বালি ও ইট ব্যবহার দেখানো হয়েছে তার কোনোটাই এখানে ব্যবহার না করে মনগড়াভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার তিনতলা ভবনটি নির্মাণের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভবনটি নির্মাণের সময়সীমা ১ বছর নির্ধারণ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দেড় বছরে ২৫ শতাংশ কাজ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন মুন্সীগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, ভবনের গ্রেডবিম ও কলাম তৈরিতে কাঠের তৈরি অতিপুরাতন সাটার ব্যবহার করে ঢালাই কাজ করা হচ্ছে। ভবনটিতে ত্রুটিপূর্ণ সাটারিংয়ের কারণে ঢালাই কংক্রিট বেরিয়ে পড়ে কলামের সাইজ ত্রুটিপূর্ণসহ ঢালাই কাজে প্রচুর হানিকম্ব (ফাঁকা গর্ত) সৃষ্টি হয়েছে। পরে সেসব স্থানে আস্তর "্বারা বন্ করতে দেখা যায় এবং সাইটে দীর্ঘ দিন ধরে রড এবং সিমেন্ট এনে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে থাকায় রডে মরিচা পড়ে গেছে। সেই মরিচা পড়া রড এখন ঢালাই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঢালাই কাজ চলাকালে দায়িত্বে থাকা গণপূর্তের কার্য সহকারী আব্দুস ছালাম মিয়াজী কাজের অগ্রগতির বিষয়ে বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলায় আরো অনেক ঠিকাদার কাজ করেন। তবে এদের মতো কচ্ছপ গতিতে কেউ কাজ করেন কি না, জানা নেই। ঠিকাদারের লোক জন রাতের আঁধারে কাউকে না জানিয়ে ভবনটির সামনের কয়েকটি কলাম ঢালাই করেছেন। এই কলামগুলোর দায়ভার আমি নেব না বলে অফিসারদের জানিয়েছি।

ভবেরচর হাইওয়ে থানা ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আহসান-উল হক জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত রড ব্যবহার না করায় পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের কাজ বন্ রাখা হয়েছিল। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নিজ উদ্যোগে রড (বুয়েট) থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট এনে তা ব্যবহার করেছে। ভবন নির্মাণের কাজটি এক বছরের সময়সীমা থাকলেও তারা দেড় বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ করতে পেরেছেন। তদের বিরু"ে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ রয়েছে। তার জন্য একাধিকবার কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দিলেও কোনো উত্তর দেয়নি। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে ভবনটি নির্মাণের কাজ করছে চলতি বছরে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সালাহ্ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রেগে গিয়ে জানান, তিনি গণপূর্তের সবাইকে জানিয়েই কাজ করছেন। তা ছাড়া অনিয়মের অভিযোগও অস্বীকার করেন।