কোভিড-১৯-এর কারণে বাজার বন্ধ থাকার পাশাপাশি লকডাউনের জন্য মানুষের উপার্জন ও খাদ্য সুরক্ষায় মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশে নারী কৃষকদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৮৩ শতাংশ নারী কৃষক মহামারি চলাকালীন তাদের জীবিকা ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন যে, তারা খাদ্য ঘাটতিতে ভুগছেন। অ্যাকশন এইডের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য দিবসে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যাকশন এইডের এই আন্তর্জাতিক গবেষণায় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো কীভাবে আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের ১৪টি দেশের ক্ষুদ্র নারী কৃষকের জীবনকে প্রভাবিত করেছে, তা উঠে এসেছে। বাংলাদেশে সেপ্টেম্বর মাসে ১৯০ জন নারী কৃষক ও স্থানীয় নেতাদের ওপর জরিপটি করা হয়। এর ফলাফলে বলা হয়েছে, অর্ধেকের (৫৫%) বেশি নারী মাহামারি চলাকালীন তাদের অবৈতনিক ও গৃহস্থালির কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীরা তাদের শিশুর চাহিদাকে নিজের প্রয়োজনের চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাদের অনেকেই কোনো কোনো বেলার খাবার না খেয়ে বা কম খেয়ে থাকছেন যাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবারে কম না পড়ে। ৫৮ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় তাদের পরিবারের সদস্যরা অনেক দিনই খাবার খেতে পারেননি। নারীরা জানান, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাদের স্ত্রীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা, পুলিশের দ্বারা হয়রানির শিকার হওয়া, এমনকি কর্তৃপক্ষকে সহিংসতার মামলা রিপোর্ট করতেও অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে অ্যাকশন এইডের জলবায়ু সহনশীল স্থায়িত্বশীল জীবন-জীবিকা বিভাগের প্রধান ক্যাথরিন গুতুন্ডু এক প্রেসবার্তায় বলেন, বিশ্ব জুড়ে কোভিড -১৯ নারী কৃষকদের ঋণী ও অভাবগ্রস্ত করে দিয়েছে। তাদের অনেকেই এখন পরের মৌসুমে চাষাবাদ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন। সরকার যদি জরুরি ভিত্তিতে এসব পারিবারিক কৃষকের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে না দেয় তাহলে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরো বিপজ্জনক হতে পারে।