রাজধানীর সদরঘাট-কামারপাড়া রুটে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সাত ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ১টার দিকে বাস চলাচল শুরু হয়। এ রুটে প্রতিদিন ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের ১৩০টি বাস চলাচল করে।
ভিক্টর ক্লাসিক বাস মালিক সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লকডাউন পরবর্তী সময় রাজধানীর সদরঘাট-কামারপাড়া রুটে বাস চলাচল শুরু করার পর থেকে পরিবহন থেকে বহিষ্কৃত নেতা মোয়াজ্জেম, মানিক, ফয়সাল ও মিজান স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু লোকদের নিয়ে সদরঘাটের ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় প্রতি বাস থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছে। এ ব্যাপারে গত ১৫ দিন আগে সমিতির পক্ষ থেকে কোতয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় সদরঘাট টু কামারপাড়া রুটের চলাচলকারী ভিক্টর পরিবহনের ১৩০টি বাস বন্ধ করে দেয় মালিকরা। পরে দুপুর ১টার দিকে পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়। তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মানিককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন মালিক সমিতির একজন নেতা বলেন, আমরা সব সময় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। কিন্তু সদরঘাট এলাকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নামধারী কতিপয় নেতাদের ইন্ধনে পরিবহনে চলছে চাঁদাবাজি। চাঁদা না দিলে এদের হাতে চালক ও হেলপারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। স্থানীয় থানার পুলিশ এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে সাহস পায় না।
এ ব্যাপারে কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিক্টর ক্লাসিক বাস মালিক সমিতির সাধারণ ডায়েরির বিষয় অবগত নন বলে জানান। ওসি বলেন, ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকাটির একটি অংশ সূত্রাপুর থানাধীন। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।