সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিংগাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক উদ্ধার করা সরকারি খাস জমি পুনরায় দখল করে নিয়েছেন দখলবাজরা। ভ্রাম্যমাণ আদালত জমি উদ্ধার করে সেখানে বৃক্ষ রোপণ ও ‘এই জমির মালিক সরকার’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। তবে আদালত কর্তৃক রোপন করা গাছ কেটে ও সাইনবোর্ড ভেঙে জমি দখল করে নেন মাহাবুব হোসেন নামের এক ব্যক্তি। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, মাহাবুব সরকারি ঐ জমি পুনরায় দখল করে শ্রমিকদের দিয়ে স্থাপনা তৈরি করছেন। তিনি সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা ও গাছ কাটার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘এই জমির মালিক আমি কি না তা বলতে পারব না। আমার বাবা খেয়ে আসছে তাই আমিও খাচ্ছি।’ এলাকাবাসী বলেন, এর আগে একটি ফার্নিচার কোম্পানির মালিক ধলেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলন করে নদীর পাড় ভরাট করে তার জমি ও ফ্যাক্টরিতে যাওয়ার জন্য সরকারি প্রকল্প ছাড়াই বেআইনিভাবে ২০ ফিট রাস্তা করেছেন তখন প্রশাসন নীরব ছিল। প্রশাসনের ঐ নীরবতার জন্যই আজ মাহাবুব সরকারি জমি পুনরায় দখল করতে সাহস পেয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহের নিগার সুলতানা বলেন, উচ্ছেদকৃত জমি পুনরায় দখলের বিষয়টি তার জানা নেই। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, মজিদ মোল্লা, আলম খাঁ ও মুক্তিযোদ্ধা ওহাব খাঁ বলেন, এখানে শ্যামল নামে আরেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত পাওয়া জমি দখল করে বাড়ি বানিয়ে ভাড়া আদায় করছেন। তবে তার ভাই বিএনপি নেতা শামিমের দাবি ভূমিহীনদের কাছ থেকে সে ঐ জমি কিনে নিয়েছেন। এই জমি কেনা-বেচার বিধান নেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাই যেভাবে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এসব জমি কিনেছেন আমিও সেভাবে কিনেছি।’ নূরানীপাড়া বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে একই কায়দায় সরকারি সম্পত্তিতে বাগান এবং মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করছেন। ঐ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম লিটনের দাবি, এখানে কোনো খাস জমি নেই। এভাবেই উপজেলার ফোর্ডনগরে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে।