সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পলাতক পুলিশের বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর রায়হানের বাড়িতে এখন শুধুই বিষন্নতা। রায়হানের মা আর স্ত্রীর কান্না থামছে না কিছুতেই। এদিকে গতকাল শনিবারও রায়হান হত্যার বিচার ও অভিযুক্ত এসআই আকবরসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের দাবিতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মানববন্ধন হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা বলেন, রায়হান হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না । এদিকে পিবিআই ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে কাস্টঘর এলাকার সুইপার কলোনির সুলাই লালসহ দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান জানান, তদন্তকালে যাদের না পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। মামলাটি স্পর্শকাতর, তাই সব বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।
রায়হান হত্যার ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, হত্যা মামলাটির পুরো বিষয় তদন্ত করছে পিবিআই। বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া পলাতক। পুলিশ তাকে খুঁজছে। কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে এসআই আকবর যেন দেশ ছাড়তে না পারে, সেজন্য পুলিশের নজরদারি রয়েছে।
এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুলিশের হেফাজত থেকে পুলিশ সদস্যের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নাটকের একটি অংশ। এই ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পক্ষপাতিত্ব আচরণ করেছেন পুলিশেরই সঙ্গেই। বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্য ও এসআই আকবরকে তারাই পালাতে সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা পুলিশের ব্যর্থতা।